অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন নগরের বন্দর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে নগর পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহমুদ, বন্দর থানার সাবেক এসআই রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া ও কে এম জান্নাত সজল, নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এসআই বর্তমানে সিলেটে কর্মরত মঙ্গল বিকাশ চাকমা, বন্দর এলাকার বাসিন্দা জামাল ফরাজী ও মিলন ফরাজী।

বাদীর আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় বাদীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান। মিথ্যা মামলা করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী ১২ ডিসেম্বর আদেশের জন্য রেখেছেন।

মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে টাকা জমা রাখেন। আট লাখ টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাঁকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নগরের আগ্রাবাদে হাসপাতাল থেকে তাঁকে বন্দর থানার একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পুরো শহর ঘোরানো হয়। এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। নইলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ওই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি পাঁচ দিন পর মুক্তি পান। এ মামলায় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। যে সময় চুরির ঘটনা দেখানো হয়, তখন তিনি হাসপাতালে দায়িত্বরত ছিলেন না। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যান এসআই কে এম জান্নাত সজল। আর কাগজপত্রে দেখানো হয় এসআই আবদুর রহিম। এভাবে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা হয়। পরে তাঁকে মাদকের মামলায় ফাঁসানো হয়।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বন্দর থানার সাবেক ওসি বর্তমানে নগর পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, চুরির মামলার এজাহারে নাম থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন