বাউফলে মন্দিরের কালী প্রতিমা ভাঙচুর, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা

পটুয়াখালীর বাউফলে মন্দিরে কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলা সদরের ভুবন সাহার কাচারি এলাকায়ছবি : প্রথম আলো

পটুয়াখালীর বাউফলে শীতলা-কালীমাতা মন্দিরের কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভুবন সাহার কাচারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে বাউফল থানায় মামলা করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিল চন্দ্র গণপতি।

বগা-বাউফল সড়কের ভুবন সাহা কাচারি এলাকায় ৫ শতাংশ জমিতে মন্দিরটির অবস্থান। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, দুই কক্ষের টিনশেডের মন্দির। এর সামনের অংশ খোলা। মন্দিরের এক পাশে (পশ্চিম) কালীপ্রতিমা ও আরেক পাশে (পূর্ব) কক্ষে শীতলাপ্রতিমা। কালীপ্রতিমার মাথা ভাঙা অবস্থায় আছে।
মন্দির-সংলগ্ন চায়ের দোকানি সবুজ শরীফ বলেন, তিনি রাত সাড়ে নয়টার দিকে পানির জন্য মন্দিরের পাশে পুকুরে যান। ওই সময় টর্চের আলোতে তিনি কালীপ্রতিমার ভাঙা মাথা মন্দিরের সামনে পরে থাকতে দেখে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিল চন্দ্রকে জানান।

অনিল চন্দ্র গণপতি বলেন, খবর পেয়ে তিনি মন্দিরে আসেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশের পরামর্শে গতকাল রাতেই তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করেন।

স্থানীয় মানুষের দাবি, শতবর্ষী মন্দিরটি ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আগে ঘটেনি। তাঁদের ধারণা, বহিরাগত দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বাউফল উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র পাল বলেন, ‘পূজা দেওয়ার পর এভাবে অরক্ষিতভাবে মন্দিরে প্রতিমা রাখা ঠিক না। যদি রাখতেই হয়, তবে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত। এরপরও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।  এ ঘটনায় সভাপতি অনিল চন্দ্র গণপতি বাদী হয়ে ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’