চোখ বেঁধে বৃদ্ধকে ঝোপে ফেলে পালাচ্ছিলেন মাইক্রোবাসচালক, পিটুনি দিলেন এলাকাবাসী
নরসিংদীর পলাশে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধ এক ব্যক্তিকে সড়কের পাশে ঝোপে ফেলে পালাচ্ছিলেন এক মাইক্রোবাসচালক। পরে ওই চালককে আটক করে পিটুনির পর পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। আর বৃদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার ভাগদী এলাকার পাঁচদোনা–ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাঁর আনুমানিক বয়স ৬০–এর কাছাকাছি। তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে আটক মাইক্রোবাসচালকের নাম মনির হোসেন (৪৫)। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আঞ্চলিক সড়কের ভাগদী এলাকার একটি ঝোপের সামনে মাইক্রোবাসটি এসে থামে। সেখানে কিছুক্ষণ মাইক্রোবাসটি থেমে থাকায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যান। কিছুটা দূর থেকেই তাঁরা দেখেন, মাইক্রোবাস থেকে কিছু একটা ওই ঝোপে ফেলার চেষ্টা করছেন চালক। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ওই মাইক্রোবাসের ভেতরে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত এক বৃদ্ধ ব্যক্তি পড়ে রয়েছেন, তিনি জীবিত। এ সময় মাইক্রোবাসচালককে ধরে পিটুনি দেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সকাল সাতটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মাইক্রোবাসচালককে আটক করে। এর আগে রক্তাক্ত ওই ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের পর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আনুমানিক ৬০ বছরের এক বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। পরে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই মারা যান তিনি।
পলাশ থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নিহত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে। মাইক্রোবাসের চালককে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুত এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।