নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেওয়া লোকজনের জন্য খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করায় জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ মো. ফয়সাল আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে নির্বাচনের সময় খাবারের আয়োজন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩(ক) লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সশরীর হাজির হয়ে প্রার্থীকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিলুর রহমানের মিনিগাড়ী বাড়ির উঠানে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছিল। তিনটি বড় পাতিলে খিচুড়ি রান্না করা হয়। আরও দুটি বড় পাতিলে খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির লোকজন গেলে রান্নার দায়িত্বে থাকা লোকজন পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে কমিটি জানতে পারেন, বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারীর নির্বাচনী পথসভা আছে। পথসভায় অংশ নেওয়া লোকজনের আপ্যায়নের জন্য খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়। এ সময় তিনটি বড় পাতিলে রান্না করা খিচুড়ি ও অব্যবহৃত চাল-ডাল, তেলসহ রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মসলা-জাতীয় উপাদান জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা খিচুড়ি ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নির্বাচনের সময়ে এ ধরনের খাবারের আয়োজন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ঘটনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩(ক) লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় জয়পুরহাটে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিএনপির প্রার্থীকে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ আছে নোটিশে।
বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারী শোকজের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি পথসভা ও খিচুড়ি রান্নার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। কেউ হয়তো আমাকে বিতর্কিত করতে এমন কাজ করেছে।’