ছয় দফা দাবি হলো—আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়ায় টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু ও ডেলটা প্ল্যান-২১০০-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন করা; ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্প বাতিল করা; আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট-ওয়ার্ক জনসমক্ষে টানানো এবং কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করে তদারক কমিটি গঠন করা; জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের সংযোগের প্রস্তাবিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভবদহ জনপদে ২০০ গ্রামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষ একটি কুচক্রী মহলের লুটপাটের শিকার হয়ে স্থায়ীভাবে পানিতে তলিয়ে যেতে বসেছেন। এ জনপদের বিপর্যস্ত মানুষ বারবার স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। এলাকাবাসী দ্রুত স্মারকলিপিতে দেওয়া দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আসেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা ও এলাকার কিছু ভুক্তভোগী মানুষ। তাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

এ সময় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুল হামিদ, সদস্যসচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, অনিল বিশ্বাস, রাশিদা বেগম, রাজু আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, জিল্লুর রহমান, তসলিম-উর-রহমান, হাসিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।