তিন বছরের কমিটি দিয়ে ১৯ বছর পার

কমিটির সভাপতি, ৩ জন সহসভাপতি, ১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর ৬ জনসহ মোট ১৭ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন।  

তিন বছর পরপর কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ প্রায় ১৯ বছর পার হচ্ছে। এরপরও সম্মেলন হওয়ার কোনো খবর নেই। দীর্ঘদিন পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘোষণা করা হয়েছিল গত ৩০ নভেম্বর। 

ওই সম্মেলন ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছিল আলোচনা, জল্পনাকল্পনা। কিন্তু সেই সম্মেলনও স্থগিত করা হয়। ফলে নেতা-কর্মীরা বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন।  তবে উপজেলার জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এখনো সাঁটানো আছে ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা এবং স্থানীয় পদপ্রত্যাশী প্রার্থীদের ছবি সংবলিত তোরণ, প্যানা ও ফেস্টুন। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ এম আমান উল্লাকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফাকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় ৬৭ সদস্যের উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। এরই মধ্যে এই কমিটির সভাপতি, ৩ জন সহসভাপতি, ১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর ৬ জনসহ মোট ১৭ জন মারা গেছেন। তারপরও এই কমিটি দিয়েই চলছে দলের কার্যক্রম। 

ওই কমিটির মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আমান উল্লাহ, সহসভাপতি হজরত আলী মাস্টার, মজিবুর রহমান ও অনাথ বন্ধু সরকার, যুগ্ম সম্পাদক রহুল আমীন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক গাজী মজিবুর রহমান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ। সদস্যরা হলেন নূর উদ্দিন, নির্মল চন্দ্র দেব, আবুল কালাম আজাদ, গাজী মো. সুবেদ আলী, আলমাস উদ্দিন খান, নেয়ামত সরকার ও মীর মো. শাহাব উদ্দিন। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আলী বলেন, ২০০৩ সালের পর জেলায় দুবার সম্মেলন হয়েছে। তোরণ ও প্যানার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।