ইউএনও মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও তাঁর কাছে একটি খবর আসে, ফতেপুর এলাকায় কবির সরদার নামের এক ব্যক্তি কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। সেই খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে পরিবারটি জানায়, বিয়ের নিবন্ধন হয়নি। কাজি শুধু কালেমা পড়িয়েছেন।

মুছাব্বেরুল ইসলাম আরও বলেন, কনের বাবাকে নিয়ে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ওই কাজির অফিসে গেলে উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ধাওয়া করে একজনকে ধরা হয়। তখন কাজি অফিসে আরেকটি বাল্যবিবাহের কাজ চলছিল।

মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই তখন ওই ব্যক্তিরা মিষ্টি বিতরণ করছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন এখানে। আমাদের দেখে তাই পালানোর চেষ্টা করেন।’

ইউএনও বলেন, যাচাই-বাছাই করে ওই কাজি একই দিনে দুটি পৃথক বাল্যবিবাহ দেন বলে প্রমাণ মেলে। তিনি এ ধরনের আরও অনেক বিয়ে দিয়েছেন, যা তাঁর অফিসের কাগজপত্র দেখে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে তিনি সাদা কাগজে লিখে বিয়ে পড়াতেন। পরে বয়স হলে তখন তাদের তথ্য নিবন্ধন বইয়ে তুলতেন।

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ওই কাজিসহ বর ও কনের বাবাকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাতেই তাঁদের পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন