খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক কমলগঞ্জ সরকারি গণকলেজ ও কমলগঞ্জ আবদুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজে চা-শ্রমিকদের সন্তানসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কম দেখেন। অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করে জানা যায়, তাদের প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা লাগত। এ খরচ চালাতে না পারায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত হতে পারত না।

ইউএনও পরে কমলগঞ্জ উপজেলার চা-শ্রমিকদের সন্তানসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বাসের জন্য আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস উপহার দেওয়া হয়। উপহারের বাস দিয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী কুরমা, চাম্পারায়, বাঘাছড়াসহ কয়েকটি চা-বাগানের শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে যাতায়াত করত।

বাসসেবা বন্ধ হওয়ার বিষয়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনিয়া সিনহা, প্রিয়াঙ্কা ও বিজয় নায়েক জানায়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাস উপহার দেওয়ার পরও সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত সুবিধা না থাকার কারণে তারা নিয়মিত কলেজে আসতে পারছে না। বর্তমানে প্রতিদিন তাদের ১০০ থেকে ১৫০ টাকা যাতায়াত খরচ লাগে, যা পরিবারের পক্ষ থেকে জোগান দেওয়া কঠিন। বাসসেবা আবার চালু দাবি জানায় তারা।

সুনীল কুমার সিনহা নামের এক অভিভাবক বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বাসের জায়গায় একটি বাস উপহার দেওয়া হয়েছে। এখন আবার সেই বাসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত খরচের কারণে গত এক বছরে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের কলেজে পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন। বাস সার্ভিস চালু না করলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ ইউএনও সিফাত উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বাসচালকের বেতন বরাদ্দ না থাকার কারণে বাসসেবা বন্ধ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আবার এ সেবা চালু করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন