যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষক চাকরিচ্যুত, প্রক্সি–কাণ্ডে তিনজনের ছাত্রত্ব বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘প্রক্সি’–কাণ্ডে জড়িত থাকায় বিভিন্ন বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

চাকরিচ্যুত শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম। ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মেহেদী হাসান (সনি), আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন (বর্ণ) ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের মো. শোভন। এর মধ্যে শোভন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ভাতিজা বলে জানা গেছে।

সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব। সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এরপর ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। এরপর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’ গঠন করে আইন বিভাগ। অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া চলমান থাকতে তাঁকে ক্লাস–পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৩ নম্বর সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। গতকালের সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ ওঠে তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গতকাল তিনজনের ছাত্রত্ব বাতিল করেছে সিন্ডিকেট।

চাকরিচ্যুত শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট সদস্য ছিলাম। পরে আমি লিগ্যাল সেলের প্রশাসকও ছিলাম। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার প্রতি একপক্ষীয় অন্যায় ও অবিচার করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে যাব।’

দুই আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন

এদিকে গতকাল সিন্ডিকেটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দুই আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-৭১’ এবং নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘অপরাজিতা’ নাম দেওয়া হয়েছে।