দিনে দোকানে তালা, রাত নামলেই গ্যাস সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে বিক্রি
রান্নাঘরের চুলা জ্বলছিল না। ঘরে অতিথি আসার কথা, কিন্তু গ্যাস নেই। এ কারণে গতকাল বুধবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার গৃহিণী সোমা আক্তার সিলিন্ডার কিনতে বেরিয়েছিলেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলপিজি গ্যাসের দোকানে ঘুরেও কোনো সিলিন্ডার পাননি। দোকানগুলোর ঝাঁপ বন্ধ, চারপাশে নীরবতা। তবে সন্ধ্যা নামতেই হঠাৎ তাঁর কাছে ফোন আসে, ‘এখন আসেন, পাওয়া যাবে।’ রাতের অন্ধকারে খুলে যায় দোকান। তবে দাম চাওয়া হয়, নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ।
এক সপ্তাহ ধরে লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্যাস নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন বাসিন্দারা। দোকান খোলা থাকলেও সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রিতে কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। তার ওপর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে। ফলে আজ থেকে সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসের জন্য প্রতি ১২ লিটার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৩ টাকা। তবে গত এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুর জেলার কোথাও তা মানা হয়নি। চড়া দামের সঙ্গে যোগ হয়েছে সিলিন্ডার–সংকট, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এক মাস ধরে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দ্রুত বাজার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জোরদার না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
লক্ষ্মীপুর শহরের দালাল বাজার এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হয় গতকাল সন্ধ্যায়। তিনি বলেন, ‘দিনে দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। রাতে ফোন দিলে বলে চলে আসেন। তখন দাম আর জিজ্ঞেস করার সুযোগ থাকে না—যা বলে, তা–ই দিয়েই নিতে হয়। ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার।’
গ্যাসের ডিলার বন্ধন ট্রেডার্সের পরিচালক মহি উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সরকার প্রতি মাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেয় একবার। আর কোম্পানিগুলো প্রতি মাসে দাম বাড়ায় দুই থেকে তিনবার। এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো সরকারি দাম আমলে না নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না।
বসুন্ধরা এলপিজির লক্ষ্মীপুর ডিপো ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রতি মাসে লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় বসুন্ধরা এলপিজির ১৪ হাজার ৩০০ সিলিন্ডারের চাহিদা রয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছেন না। বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।