নিহত সিরাজ উপজেলার মিয়ারগাঁও গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত আফসার উদ্দিন খন্দকারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসলেমা বেগমও (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইব্রাহীম ও সিরাজরা ছয় ভাই। তাঁদের বাবা আফসার উদ্দিন খন্দকার জীবদ্দশায় সিরাজকে দুই গন্ডা জমি (সাড়ে তিন শতক) বেশি দিয়ে যান। বাবার মৃত্যুর পর ওই জমি নিয়ে সিরাজের সঙ্গে ইব্রাহীমের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে বেশ কয়েকটি মামলাও চলমান। এ ছাড়া অনেক সালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন সিরাজ।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই মামলার একটি কাগজ আজ সকালে ইব্রাহীমের বাড়িতে আসে। ওই কাগজ হাতে পাওয়ার পরপরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন ইব্রাহীম। এ সময় তাঁর স্ত্রী ফিরোজা বেগম, মেয়ে মদিনা আক্তার, জামাতা শামসুল মিয়া, ছেলে হোসেন খন্দকার ও শাহেদ খন্দকারও ক্ষিপ্ত হন। তাঁরা সবাই হাতে শাবল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সিরাজের মুরগির খামারে গিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি পেটান। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সিরাজ। মারধরে বাধা দিতে গেলে সিরাজের স্ত্রী মোসলেমা বেগমকে উপর্যুপরি পিটিয়ে আহত করা হয়। ওই অবস্থায় তাঁদের ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যান।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজ ও মোসলেমাকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁদের দুজনকে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথেই পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সিরাজকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে মোসলেমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লোপা চৌধুরী বলেন, শিবপুর থেকে সিরাজ নামের এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে ইব্রাহীম খন্দকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে ইব্রাহিমের মুঠোফোনে কল করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেজবাহ আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

ওসি মো. সালাউদ্দিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, মাত্র দুই গন্ডা জমির বিরোধে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক ব্যক্তিকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।