অপহরণের পর ধরা পড়ার ভয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নিহত শিক্ষার্থী আহনাফ
ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

অন্য পাঁচ দিনের মতো কোচিং শেষে বাসায় ফিরছিল আহনাফ আল মাঈন (১০)। তবে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয় সে। এরপর মুঠোফোনে তার বাবার কাছে চাওয়া হয় ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ। এর মধ্যেই অপহরণকারীদের একজনকে চিনে ফেলে আহনাফ। এ কারণে তাকে হত্যা করে তারা।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনীর সদর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। এর চার দিন পর ১২ ডিসেম্বর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে আহনাফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তার বাবা মাঈন উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আশরাফ হোসেন চৌধুরী (২০), মো. মোবারক হোসেন (২০) ও ওমর ফারুক (২০)।

এর মধ্যে আশরাফ ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে। তিনি ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আর মোবারক ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। অন্যদিকে ওমর ফারুক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কামালপুর এলাকার মো. শাহ আলমের ছেলে।

শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ফেনী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে থেকে তোলা
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

আদালত সূত্র জানায়, আহনাফ আল মাঈন ফেনী গ্রামার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে পরিবারের সঙ্গে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। মামলার পর কিছুদিনের মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁরা তিনজনই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর গত বছরের ৩০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। গত ২৫ মে এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। এ মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মেজবাহ উদ্দিন খান। এতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাব্বির উদ্দিন, কামরুল হাসান ও সামছুদ্দিন মানিক।

জানতে চাইলে সরকারি কৌঁসুলি মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আহনাফের বাবা মাঈন উদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছোট ছেলের হত্যাকারীদের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।’