ঘুমন্ত শিশুকে স্বামীর পাশে রেখে যান মা, ফিরে দেখেন শৌচাগারের ট্যাংকে ছেলের লাশ

সুনামগঞ্জে শৌচাগারের ট্যাংকে শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। আজ সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার লালপুর গুচ্ছগ্রামেছবি: প্রথম আলো

সুনামগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকের পানিতে ১১ মাস বয়সী এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার প্রতিবেশীকে আটক করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আমির হামজা নামের ওই শিশু একই গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমদ ও সাবিকুন নাহার দম্পতির ছেলে।

পুলিশ ও পরিবারের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের লালপুর গুচ্ছগ্রামে সপরিবার থাকেন দিনমজুর সাব্বির আহমদ। আজ সকাল সাতটার দিকে আমির হামজাকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে একই গ্রামের বাবার বাড়িতে যান সাবিকুন নাহার। তখন পাশেই ঘুমাচ্ছিলেন শিশুটির বাবা সাব্বির। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাবিকুন ফিরে দেখেন, স্বামী ঘুমিয়ে থাকলেও পাশে শিশুটি নেই। এরপর স্বামীকে জাগিয়ে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন এবং প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। সেখানে কয়েকটি রিং মাটিতে পোঁতা থাকলেও ওপরে কোনো ঢাকনা ছিল না। রিংয়ের ভেতরে জমে থাকা পানিতে মরদেহটি ভাসছিল। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আনে।

এই ট্যাংকের পানিতে ভাসছিল শিশুটির মরদেহ
ছবি: প্রথম আলো

পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের মনির হোসেন (৩০) ও তাঁর মা রাবেয়া বেগম; জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) ও স্ত্রী আফিয়া বেগমকে (৩৫) থানায় নেওয়া হয়েছে।

শিশুটির মা সাবিকুন নাহার বলেন, তাঁর ছেলে মাত্র ১১ মাস বয়সী, হাঁটতেও পারত না। কেউ শিশুটিকে হত্যা করে শৌচাগারের ট্যাংকের ভেতর ফেলে রেখেছে। বাবা সাব্বির আহমদও ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।