পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদার ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পরিবর্তে ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছেন তাঁরা। অথচ আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে তাঁদের গ্রাহকসংখ্যা ৫১ হাজার। চাহিদামতো বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমে আসবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে শহরের উত্তর দিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান বলেন, ‘যতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন, ততটুকু বরাদ্দ পাচ্ছি না। আমার আওতায় সাতটি ফিডার আছে। সকালে ও বিকেলে দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে আরও বেশি লোডশেডিং হবে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সমিতির আওতাধীন উপজেলাগুলো হলো সদর, নাসিরনগর, বিজয়নগর, আখাউড়া, নবীনগর ও কসবা। সংস্থাটি ২৪ ঘণ্টায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে সদর, বাহাদুরপুর, বিজয়নগর-২ (চম্পকনগর), আখাউড়া-১ (সদর), উড়শিউড়া (সুলতানপুর), নবীনগর-৩ (বিদ্যাকূট), নবীনগর-৪ (সাহারপাড়), আখাউড়া-২ (মোগড়া), কসবা-২ (তিনলাখ পীর), কসবা-১ (কুটি), নবীনগর-১ (নবীনগর সদর), নবীনগর-২ (থোল্লাকান্দি), নাসিরনগর, বিজয়নগর-১ (চান্দুরা), নবীনগর-৫ (জিনদপুর) উপকেন্দ্রে দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের গ্রাহক আছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার। প্রতিদিন ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাচ্ছেন গড়ে ৬০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। মাঝেমধ্যে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ১৩২/১৩৩ কেবি গ্রেড এবং আশুগঞ্জে ২৩০/১৩২ গ্রেডের ট্রান্সফরমারটি ওভারলোডেড। এ ছাড়া আশুগঞ্জে কিছু ডিজেল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়ায় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এটিও লোডশেডিংয়ের অন্যতম একটি কারণ।

মঙ্গলবারও জেলার বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিং ছিল। সোমবার রাত থেকেই এটি ব্যাপকভাবে শুরু হয়। সেই অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় কয়েকবার লোডশেডিং হলেও সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না।

শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার ওষুধের দোকানদার হানিফ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটায় দোকান খুলেছেন। এর পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত সাতবার লোডশেডিং হয়েছে। নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের বাসিন্দা সঞ্জয় দেব বলেন, সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত আট থেকে নয়বার লোডশেডিং হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে ঘণ্টার আগে আর আসে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন