মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব। শির উঁচু করে দাঁড়ানোর একটি ঐতিহাসিক দলিল। মুক্তিযুদ্ধের শিকড় ভুলে গেলে চলবে না। এ দেশ এমনি এমনি স্বাধীন হয়নি। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও মা-বোনদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ কথা বলেন। দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও একই দিন রাজশাহী, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নীলফামারী ও মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এসব অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্ধুসভার সদস্যরা।
রাজশাহী
বিকেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল সরকারি স্কুল ও কলেজের মিলনায়তনে রাজশাহী বন্ধুসভার উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বন্ধুসভার সভাপতি মো. সোহান রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ২ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির। তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার ধারণা দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সবাই বলে থাকেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে হবে। কিন্তু চেতনাটা কী, সেটি ব্যাখ্যা করে বলেন না। এই চেতনা হচ্ছে সবাই মিলে ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে একসঙ্গে সুখী-সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন সরকার এবং কবি ও নাট্যকার রাকিব হাসান। এতে অন্যদের মধ্যে বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বক্তব্য দেন।
পরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী আফসারা ইরা, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রহমান তমা ও বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরিন নিসা। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী রোকেয়া খাতুন ও রাজশাহী কলেজে স্কুলের শিক্ষার্থী রিদওয়ান মোশাররফ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রথম আলো বন্ধুসভার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলেয়া মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেক বীর প্রতীক, ৩ নম্বর সেক্টরের সেকশন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ জামাল, আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সাবেক সভাপতি ও পরিচালক হারুন অর রশিদ, পরিচালক শাহীন মৃধা, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিক, প্রভাষক ও বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি অভিজিৎ রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে আবু সালেক বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। বয়স যখন ১২ বছর এক মাস, তখন বাবা-মাকে কিছু না বলে কিছু সেদ্ধ ধান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে যাই। এতই ছোট ছিলাম, কেউ প্রশিক্ষণে নিতে রাজি ছিল না। আমার সাহস ও যুদ্ধ করার আগ্রহ দেখে আমাকে নির্বাচন করা হয়। পরে কসবার সীমান্তবর্তী গঙ্গাসাগর, মনিয়ন্দসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেছি। প্রত্যেক যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।’
আবু সালেক আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু মুক্তিযুদ্ধ না। এই দেশ এমনি এমনিই স্বাধীন হয়নি। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। কিন্তু যখন মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেউ বিরূপ ভাব প্রকাশ করেন, তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে কোনোভাবেই অবহেলা ও অসম্মান করা যাবে না। তাঁদের সম্মান করতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১৮১ শিক্ষার্থী। পরে পাঁচজনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শেখ মোহাম্মদ দাইয়ান ইয়াসির প্রথম, একই প্রতিষ্ঠানের আবরার খালেদ দ্বিতীয়, আসিফ টিউটোরিয়াল অ্যান্ড হাইস্কুলের রামিয ওয়াসীত খান তৃতীয়, নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের আফসানা রহমান চতুর্থ এবং আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের কামরুন্নাহার রিতু পঞ্চম হয়েছে। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়।
নীলফামারী
দুপুরে শহরের ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে নীলফামারী বন্ধুসভা। নীলফামারী বন্ধুসভার সভাপতি রুবি বানুর সভাপতিত্বে ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্কু বিহারী রায় ও মো. সহিদুল ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মেজবাহুল হক, বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী, পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চবিদালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন, ছমির উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আফসানা আফরোজ, কালীতলা উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুধীর রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্কু বিহারী রায় বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। কারণ, আজকের তরুণেরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’
পরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৯৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে বিজয়ী পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। তারা হলো জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি শিডিউল কাস্ট উচ্চবিদ্যালয়ের মো. রিপন ইসলাম প্রথম, নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মুহিত ইসলাম দ্বিতীয়, নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জান্নাতি বৃষ্টি তৃতীয়, ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানষী রায় চতুর্থ, নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নওশীন শারমিলি পঞ্চম হয়েছে।
বন্ধুসভার সহসভাপতি মীর সাদিক হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফারজানা মমো, দপ্তর সম্পাদক সুমন ইসলাম, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতি রম্মান, বইমেলা সম্পাদক দুলালী খাতুন, দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানাসহ অন্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার
বেলা ১১টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষায় বিভিন্ন শ্রেণির ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কুইজের ফলাফল ঘোষণার আগে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আকমল হোসেন। বন্ধুসভার উপদেষ্টা, লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল খালিকের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মৌলভীবাজার জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা তুলসী রানি সরকার, কবি ও শিক্ষক কন্দর্প বিজয় চৌধুরী, শিক্ষক মুহিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই, তোমরা মানবিক মানুষ হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়বে। মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা বই পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাইনি। তোমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করবে। জ্ঞানার্জন করবে। সমাজে অবদান রাখবে। মনে রাখবে, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করেননি। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। এখনো আমরা আমাদের সাধ্যমতো মানুষের জন্য কাজ করছি।’
পরে কুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মাহদি হাসান প্রথম, নবম শ্রেণির তাসলিমুল সিফাত দ্বিতীয়, দশম শ্রেণির সুপ্রতিম দত্ত তৃতীয়, নবম শ্রেণির নীলকান্ত চক্রবর্তী চতুর্থ এবং অষ্টম শ্রেণির ইসরাক মুকিত পঞ্চম হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় বন্ধুসভার সভাপতি মো. রাতুল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তালহা আমীন তাহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ কোরেশী, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য সম্পাদক তাসফিক কোরেশী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিমা আক্তার, প্রচার সম্পাদক ইফতেখার ইফতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গোপালগঞ্জের বটতলায় আইকন প্লাস কোচিং সেন্টারের হল রুমে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে আলোচনার আগে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
রোববার বিকেল চারটায় প্রথম আলোর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অনির্বাণ স্কুলের অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার, বাঙালি জাতির মুক্তির দলিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। তোমাদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দেওয়াই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং সেই চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফা ঐশীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সদস্য মেহেরব হাসান খান, রেদওয়ান ইসলাম, সিয়াম, সাদিক, তালহা উপস্থিত ছিলেন। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে হাজি লাল মিয়া সিটি কলেজের মো. আমীন শেখ প্রথম, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের জ্যোতি বাইন দ্বিতীয়, মো. সিজান শেখ তৃতীয়, অর্থিষ্মান শেখ চতুর্থ ও ঐশী রায় পঞ্চম হয়। তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ
সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বুলচান্দ হাইস্কুল ও কলেজে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিকেলে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভা।
বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘প্রথম আলো গণিত অলিম্পিয়াড করে, ভাষা প্রতিযোগসহ আরও নানা আয়োজন করে জানি। এবার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের কথা শুনে মনটা ভরে গেলে। শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনুষ্ঠানে আসব।’ এ আয়োজনের জন্য প্রথম আলো বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কিছু পাওয়ার আশায় আমরা যুদ্ধ করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবল স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের মনে সংশয় ছিল সেনাবাহিনী কী করবে। কিন্তু পরে যখন কালুরঘাট থেকে জিয়াউর রহমান ঘোষণা পাঠ করলেন, সেটি আমাদের আরও উজ্জীবিত করে।’
সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি সৌরভ সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাজকিরা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ, সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিক্ষক কানিজ সুলতানা, শহরের লবজান চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, লেখক-গবেষক সুখেন্দু সেন, আইনজীবী মাহবুবুল হাছান তালুকদার, সমাজকর্মী গোলাম হাফিজ, বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, প্রথম আলোর সুনামগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক খলিল রহমান বক্তব্য দেন।
পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় জয়ী পাঁচজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রতিযোগিতায় ইমতিয়াজ আহমদ প্রথম, শাহরিয়ার তাহমিদ দ্বিতীয়, অর্ণব সরকার চাঁদ তৃতীয়, মো. মাহির লাবিব চতুর্থ ও অপত্য নারায়ণ ঋজু পঞ্চম হয়েছে। এ ছাড়া বন্ধুসভার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী আরও ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বই উপহার দেওয়া হয়েছে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]