ভালো ভোটের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার করতে হবে: মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়ায় কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনেছবি: প্রথম আলো

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘বিএনপির মতো বড় দল তাড়াতাড়ি ভোট চায়। আমরাও ভোট চাই। তবে ভালো ভোট। নয়ছয় মার্কা ভোট নয়। এমন একটা ভোট, যে ভোটের ফলাফলের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা গণতন্ত্র পাব। এই ভোটের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার তা করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের বগুড়া জেলা শাখা এ কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভালো ভোটের জন্য আগে পুলিশকে ঠিক করতে হবে। ভালো ভোটের জন্য ভালো পুলিশ লাগবে। পুলিশই দিনের ভোট রাতে করেছিল। পুলিশই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকে। পুলিশই জনগণের ওপর জঘন্য অত্যাচার করতে পারে। আগে পুলিশ ঠিক করতে হবে। অন্য কোনো বাহিনী জনগণকে পেটাতে পারে না, জোর করে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারে না। মানুষের পকেট থেকে টাকা নিতে পারে না। সেই কারণে আগে পুলিশকে ঠিক করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘যাঁরা গুম, খুন, আয়নাঘরের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যাঁরা রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লুট করেছেন, পাচার করেছেন, তাঁদের বিচার করতে হবে। দেশের মানুষ এখন তাঁদের বিচার দেখতে চায়। প্রচলিত আইনেই তাঁদের বিচার করতে হবে। তবে বিচার করতে হলে ভালো মানুষকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। যারা জনগণের উন্নয়ন চায়। মার্কা নয়, ব্যক্তির যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ টেনে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের ডাকসু নির্বাচনে আমার সঙ্গে দুই দফা হেরেছিলেন। কিন্তু সেই কাদের একসময় রাষ্ট্রের দুই নম্বর লোক হয়ে উঠেছিলেন। সেই...কাদের এখন কই? কেউ জানেন না। অথচ আমি মন্ত্রী-এমপি না হয়েও এখন সুখে আছি।’

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে। অথচ দেশে এখন দখলের উৎসব চলছে। দখলবাজের তালিকায় ‘এ’ চলে গেছে। হাতবদল হয়ে ‘বি’ বসেছে সেখানে। ‘এ’-এর জায়গায় ‘বি’, আবার ‘বি’-এর জায়গায় ‘সি’ বসেছে। এটা বন্ধ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে মান্না আরও বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের নেপথ্যে ছিল ঘুষবাণিজ্য। দেশে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অথচ ভারতের আসাম ও অরুণাচলের মধ্যে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ কোটি রুপি। পদ্মা সেতুতে রেলপথ পারাপারের ব্যবস্থা আছে। ভারতের ওই সেতুতে রেলপথ নেই। রেলসেতুর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দেশে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায়। একই আয়তনের ভারতের মাদ্রাজে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৮৩ হাজার কোটি রুপি। দেশে উন্নয়নের নামে শুধু টাকা পাচার আর কমিশন–বাণিজ্য হয়েছে। যত বড় প্রকল্প, তত বেশি বরাদ্দ, কমিশন, লুটপাট আর পাচার হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের জেলা শাখার আহ্বায়ক মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক তালুকদার। ধুনট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুকুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে সাইদুর রহমান, পপি বেগম, মামুনুর রশিদ, আবুল কালাম আজাদ, রাজিয়া সুলতানা, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।