ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে পালান কর্মচারী, পরে দেখা যায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব
দোকানের সোনার চুড়িগুলো ছিল তাঁর তত্ত্বাবধানে। সুযোগ বুঝে একে একে সরিয়ে সেগুলোর জায়গায় রেখে দেন ইমিটেশনের চুড়ি। এভাবে দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার সরিয়ে বিভিন্ন জুয়েলার্স ও ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখে টাকা নেন রোমেন দে (৩৬)। পরে দোকানের সোনার হিসাব মেলাতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। মালিক দোকানে আসছেন বুঝতে পেরে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যান তিনি।
১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের নিউ কনক বাহার জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোমেন দেসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্যামল সিংহ (৪৭), জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫টি সোনার চুড়ি। ওই ৫৫টি সোনার চুড়ির ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার নগরের কোতোয়ালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। আজ শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ। এ সময় পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার কাজী মো. বিধান আবিদ এবং পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রোমেন দে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ওই জুয়েলার্সে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। দোকানের নিয়ম অনুযায়ী, কর্মচারীরা নিয়মিত সোনার মজুতের হিসাব মিলিয়ে দেখতেন। ১৪ আগস্ট দুপুরে কয়েকজন কর্মচারী হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান। পরে তাঁরা দোকানের মালিক বিপ্লব বসাককে বিষয়টি জানান। এ সময় রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে দেখা যায় সেখানে থাকা ৫৫টি সোনার চুড়ি নেই, সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক। গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রোমেন দে দোকান থেকে সোনার চুড়ি সরিয়ে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স থেকে সোনার চুড়িগুলো সরিয়ে তিনি কয়েকটি জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রেখে টাকা নিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় বন্ধক রাখা সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।