মাদ্রাসার ছাদে খেলার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট পাঁচ ছাত্রী, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বিদ্যুৎস্পৃষ্টপ্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ ছাত্রী আহত হয়েছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কাশিপুরের হাজীপাড়া এলাকায় মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ছাত্রীরা হলো মোছাম্মদ জিদনি (১৪), লামিয়া (১৪), মরিয়ম (১২), আতিয়া (১১) ও আছিয়া (১০)। তাদের সবাইকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিকেলে কয়েকজন বাচ্চা ছাদে খেলতে গেলে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে পাঁচজন আহত হয়। তাদেরকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার সকালে চিকিৎসার অগ্রগতি জানা যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মুফতি আবদুর রহমান, পরিচালক, হাজীপাড়া এলাকায় মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসা

স্থানীয় লোকজনের বরাতে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, বিকেলে মাদ্রাসার তিনতলা ভবনের ছাদে ছাত্রীরা খেলছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে একটি আখ ছিল। ভবনের ছাদের ওপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার রয়েছে। অসাবধানতাবশত আখ ওই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে ছাত্রীরা দগ্ধ হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসার ছাদে খেলার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হয়ে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী পাঁচজন ছাত্রী জরুরি বিভাগে এসেছে। তারা চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে আড়াই শ ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বিকেলে কয়েকজন বাচ্চা ছাদে খেলতে গেলে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে পাঁচজন আহত হয়। তাদেরকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার সকালে চিকিৎসার অগ্রগতি জানা যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, দগ্ধদের মধ্যে জিদনির শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ ও আতিয়ার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এই তিন ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া অন্য দুই ছাত্রীর একজনের শরীরের ১৩ শতাংশ এবং অপর একজনের শরীরের ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।