আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, হবিবুর রহমান হলের ৩৫৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন ওই শিক্ষার্থী। বুধবার রাতে ওই হলের তৃতীয় ব্লকের তিনতলার বারান্দা থেকে ওই শিক্ষার্থী পড়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়।

নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম কে জি এম শাহরিয়ার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা শাহরিয়ারকে দ্রুত জরুরিভাবে আইসিউতে নিতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালে জরুরি বিভাগে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের বলেন, চিকিৎসকের রেফারেন্স লাগবে। পরে ওই শিক্ষার্থী সেখানেই মারা যান। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে থাকা ফুলের টপ ভেঙে ফেলেন ও হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনায় পরে মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে হাসপাতালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

শাহরিয়ারের সহপাঠী সামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁদের সহপাঠী চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। এ নিয়ে কথা বলতেই হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক, আনসার সদস্যসহ অন্যরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁদের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাতুন নুর লাকী প্রথম আলোকে বলেন, ওই রোগী আসার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আসলে উনি আগেই মারা গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় ‘ডাক্তার কই, ডাক্তার কই’ করে যখন ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তখন ইন্টার্ন চিকিৎসক ভয় পেয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অন্যরা এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সবাই একযোগে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ দাবিতে রাত ১২টার দিকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।