আবদুল কাদেরের (৬৫) শরীরে জ্বর ও ব্যথা। তাঁর কাছে ওষুধ কেনার টাকা নেই। গত শনিবার হাসপাতালে গিয়েছিলেন, কিন্তু ওষুধ পাননি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে হতদরিদ্র আবদুল কাদেরের (৬৫) বাড়ি।

একই দিনে উপজেলার বাজিতা গ্রামের আছিয়া বেগম (৫৫), রঘুনাথপুর গ্রামের ফোরকান হাওলাদারসহ অন্তত ৩০ জন রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় তাঁদেরও খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে।

উপজেলা হাসপাতাল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কাঁঠালতলী ২০ শয্যা হাসপাতালের অবস্থান। সেখানে সাধারণত হতদরিদ্র মানুষেরাই বেশি আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু সরকারি ওষুধের সরবরাহ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েন এসব মানুষ।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালের জন্য কোনো সরকারি ওষুধের বরাদ্দ নেই। উপজেলা হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ এনে রোগীদের দেওয়া হয়। এ মাসে যা আনা হয়েছে তার দু–একটি ছাড়া বাকি ওষুধ কয়েক দিনেই শেষ হয়ে গেছে।

ওষুধের বরাদ্দ চেয়ে এবং চিকিৎসক ও জনবলসংকটের কথা চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তেন মং, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, মির্জাগঞ্জ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে মাধবখালী ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে কাঁঠালতলী গ্রামে ২০০৬ সালে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর ১৬ বছর কেটে গেছে। অজ্ঞাত কারণে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি অন্তর্বিভাগ। শুধু উপজেলা হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ এনে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ। রয়েছে জনবলসংকটও । স্থানীয় ব্যক্তিরা হাসপাতালটি সম্পূর্ণরূপে চালু করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ৪ জন, ২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ৫ জন নার্স, ২ জন ওয়ার্ড বয়, ১ জন করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, নিরাপত্তা প্রহরীসহ ২৩টি পদ থাকার কথা। তবে বর্তমানে কাগজে কলমে এখানে কর্মরত আছেন দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন ওয়ার্ড বয়। বাকি পদগুলো শূন্য পড়ে আছে। আর হাসপাতালের অবকাঠামো, আসবাবপত্র, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

হাসপাতালে কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে এই হাসপাতালে অন্তত ৪০-৫০ জন রোগী আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। উপজেলা হাসপাতাল থেকে যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়, তা দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তেন মং বলেন, কাঁঠালতলী ২০ শয্যা হাসপাতালের আর্থিক বরাদ্দ কোড তৈরি হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরাদ্দ থেকে কিছু ওষুধ কাঁঠালতলী হাসপাতালে পাঠানো হয়। জনবলসংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ওখানে দুজন চিকিৎসক সংযুক্তি দেওয়া আছে। ওষুধের বরাদ্দ চেয়ে এবং চিকিৎসক ও জনবলসংকটের কথা চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

স্থানীয় মাধবখালী ইউপির চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি নামে আছে, কাজে নেই। ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই। মাঝেমধ্যে এক-দুজন চিকিৎসক এসে বহির্বিভাগে বসেন। হাসপাতালটি বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ চালু হলে মির্জাগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, বেতাগী—এই তিন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবেন।