বগুড়া-৪: বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর রঙিন ব্যানারের ছড়াছড়ি

বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) নির্বাচনী এলাকায় ডিজিটাল রঙিন ব্যানার টানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। গতকাল বুধবারছবি: প্রথম আলো

বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী এলাকায় ডিজিটাল রঙিন ব্যানার টানিয়ে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি।

নির্বাচনী আচরণবিধিমালার ৭ নম্বর ধারায় লিফলেট, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহারের বিষয়ে (ঙ) উপধারায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে এবং এর আয়তন হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। এসব ব্যানারে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।

গতকাল বুধবার কাহালু সদর, মালঞ্চা, তালোড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনের আছে। কাহালু সদরের রেলওয়ে স্টেশন ও চারমাথা এলাকায় টানানো দুটি রঙিন ব্যানারে মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ নির্বাচনী এলাকার নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। নিজের প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব রঙিন ব্যানারে শিক্ষার্থী, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ছবি দেখা গেছে। কাহালু উপজেলার মালঞ্চা বাজারেও রঙিন ব্যানার দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যানার, প্যানা, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রচার-প্রচারণার বিষয়টি সমন্বয় করছে নির্বাচনী মিডিয়া সেল। যত দূর জানি, তাঁরা নির্বাচনী আচরণবিধিমালা মেনেই এবং প্রশাসনকে অবগত করে নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানিয়েছেন। রঙিন বিলবোর্ডেও বিধিনিষেধ নেই। প্রচারণায় কোনো আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটেনি।’

অন্যদিকে কাহালু উপজেলা সদর ও মালঞ্চা বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী মোশারফ হোসেনেরও রঙিন ডিজিটাল ব্যানার দেখা গেছে। এ বিষয়ে মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুসরণ করেই ধানের শীষের প্রচারণা চলছে। বিধিমালা লঙ্ঘন করে কোথাও রঙিন ব্যানার টানানো হয়নি। রঙিন ব্যানার নয়; বিধি মেনে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন জানান, নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আছে। ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। কাপড়ের ব্যানার হতে হবে। তবে রঙিন বিলবোর্ড টানানোর ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে পুরো নির্বাচনী এলাকায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড টানানো যাবে না। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমনভাবেও বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না।

কাশপিয়া তাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইদরিস আলী হাতপাখা প্রতীক এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩। এখানে ভোটকেন্দ্র ১১৪টি এবং ভোটকক্ষ ৬৫৪টি।