ছাত্রাবাস থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরের আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাহফুজুরের বন্ধু ও ছাত্রাবাস সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল।

একপর্যায়ে ওই বান্ধবী ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) মুঠোফোনে কল করে মাহফুজুরের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। পরে মেস ব্যবস্থাপক ও অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর দরজা খুলে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে মাহফুজুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ছাত্রাবাসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীর সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই তিনি গলায় ফাঁস দেন।

নিহত মাহফুজুরের এক সহপাঠী জানান, চার থেকে পাঁচ বছর ধরে ওই মেয়ের সঙ্গে মাহফুজুরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি হলেও পরে সেটির সমাধান হয়েছিল। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ কমে যায়।

ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুপুরে তাঁর মুঠোফোনে এক নারী কল করে দ্রুত মাহফুজুরের কক্ষে যেতে বলেন। কক্ষের সামনে গিয়ে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর দরজা খুলে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল মতিন বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।