চট্টগ্রামে পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান, মেয়রের পদত্যাগ চায় এনসিপি
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, নগর পুলিশ দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে তাঁদের তালিকা করে দায়সারা কাজ করেছে। তাঁদের চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাহলে কী তাঁরা নোয়াখালীতে গিয়ে থাকতে পারবেন? সন্ত্রাসী যেখানেই থাকুক, তাঁকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
আজ সোমবার বিকেলে নগরের বিপ্লব উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রামের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, মেয়রের পদে থেকে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অনেক আগেই তাঁদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে। ২৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
মেয়রের পদত্যাগ দাবি করে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শাহাদাত হোসেন শুরু থেকেই ছিলেন। আদালতের রায়ে তিনি মেয়র হয়েছেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি তারেক রহমান চটগ্রাম আসা উপলক্ষে সমন্বয়কের কাজ করছেন। ধানের শীষে ভোট চাইছেন তিনি। এটি কোনোভাবেই কাম্য না। আশা করছি, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তিনি পদত্যাগ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরী, আজগর আলী, মোহাম্মদ আজাদ, এমদাদুল হক, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, যুব শক্তি মহানগরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ন সদস্যসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ প্রমুখ।
গত শনিবার ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ নগরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। ‘দুষ্কৃতকারীদের’ তালিকাসহ নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় গণমাধ্যমেও। এরপর ওই দিন রাতেই তালিকা থেকে বিএনপির এক নেতা ও মৃত এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম বাদ দিয়ে সংশোধন করা হয়। তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাজ্জাদ আলী, সাজ্জাদ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যাসহ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে।