শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় দিঘীরপাড় পরিবহনের বাসগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় পরিবহনটির চালক মুরাদ হোসেন বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ-গুলিস্তান পথে আমাদের ৫০টি বাস চলাচল করে। বাসভাড়া ছিল ৭০ টাকা। রাতে হঠাৎ তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমরা ভাড়া বাড়াতে পারিনি। ভাড়া বেশি চাইলেই যাত্রীদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে হবে। এমনকি হাতাহাতিও হতে পারে। তাই আজ মুন্সিগঞ্জ থেকে আমাদের একটি বাসও ছেড়ে যায়নি। সরকার যে পর্যন্ত এর একটা সমাধান না করবে, সে পর্যন্ত গাড়ি এখান থেকে ছাড়া হবে না।’

রুমার স্পেশাল পরিবহনের বাস দিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে রংপুর, কুড়িগ্রামে যাত্রী আনা–নেওয়া করা হয়। বাসটি ৪০ সিটের। এই পরিবহনের বাস চালু থাকলেও ছিল না কোনো যাত্রী। এখানকার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রতিনিধি কবির হোসেন বলেন, তেলের দাম ৪০-৫০ ভাগের মতো বাড়াল। সরকার বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করল না। এ পথে আগে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা নেওয়া হতো। এখন সেটি ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টিকিট বিক্রি নেই। আজ গাড়ি ছাড়ার সম্ভাবনা কম।

default-image

মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মুক্তারপুর বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে প্রতিদিন রংপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম এবং বরিশাল, পটুয়াখালী, আমতলী, কলাপাড়া অলিপুর, ভাবনাতলা, বরগুনা, তালতলী, কুয়াকাটা, বগা, বাউফল কালাইয়া, উলানিয়া, গলাচিপার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সাতটি পরিবহনের একটি করে বাস।

তবে আজ ছিল ভিন্ন চিত্র। সকাল থেকে এসব পরিবহনের কোনো টিকিট বিক্রি করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভাড়া বেশি হওয়ায় টিকিট না কেটেই ফিরে যেতে দেখা যায় যাত্রীদের।

তিশা এন্টারপ্রাইজের মুন্সিগঞ্জের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তাঁদের বাস মুক্তারপুর থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী পর্যন্ত যায়। বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা ছিল। আজ পর্যন্ত এ ভাড়ায় রয়েছে। তবে সকাল থেকে কোনো যাত্রী নেই তাঁদের।

নদী পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. রতন বলেন সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রতিদিন তাঁরা অন্তত ২৫টি টিকিট বিক্রি করেন। আজ একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে মুন্সিগঞ্জ থেকে রংপুরের ভাড়া ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আজ ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। যাত্রীরা ভাড়া জিজ্ঞাসা করেই চলে যাচ্ছেন।

আহসান পরিবহনের টিকিটের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল ১৪টি টিকিট ৫৫০ টাকা করে বিক্রি করেছিলাম। রাতে হঠাৎ তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। মালিকপক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তাই বাস বন্ধ রাখা হয়েছে।’

কুড়িগ্রামের যাত্রী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘অন্য সময় এখান থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাড়ি যেতাম। আজ ৭০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। সরকার তেলের দাম বাড়াল। বাস বাড়াল ভাড়া। বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে আমাদের কাছ থেকে। আমরা ভাড়া দেব কোথা থেকে।’

লেগুনায় ভাড়া বাড়েনি, যাত্রী তোলা হচ্ছে বেশি

মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার জন্য মুক্তারপুর স্ট্যান্ডে ৫১টি লেগুনা রয়েছে। এসব লেগুনার ভাড়া আগের মতোই ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে সিটের তুলনায় যাত্রী বেশি নেওয়া হচ্ছে। মুক্তারপুর লেগুনাস্ট্যান্ডের সুপারভাইজার সেন্টু মোল্লা বলেন, ‘আমরা ভাড়া বাড়াইনি। ভাড়া বাড়াতে গেলেই যাত্রীদের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়াতে হবে। তবে পাঁচজনের সিটে ছয়জন করে নিচ্ছি। তাতেই নানা ধরনের কথা শুনতে হচ্ছে।’

শঙ্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা
গণপরিবহনগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীর চাপ পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর। মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কপথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। যাত্রী বেশি থাকায় খুশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। তবে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। চালক মোহাম্মদ হালিম বলেন, ‘বাস বন্ধ। অন্য দিনের তুলনায় আজ যাত্রীসংখ্যা বেশি। তেলের দাম বাড়ায় বাসের মালিক ও চালকেরা এখন যেমন চিন্তিত রয়েছেন। আমরা চিন্তিত, কবে জানি আমাদের গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয়।’

এদিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে বাড়েনি লঞ্চের ভাড়া। তবে আগামীকাল রোববার থেকে ভাড়া বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন