শিশুর ডায়াপার ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু

ছুরিকাঘাতপ্রতীকী ছবি

কুমিল্লায় শিশুর ব্যবহৃত ডায়াপার ফেলাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বুড়িচং উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই নারীর হাতের রগ কেটে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (২৫) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগৎপুর নাগরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর শ্বশুরবাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার ছুটনা গ্রামে। ফাহিমা আক্তারের দুই সন্তান রয়েছে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা আড়াইটার দিকে বাড়ির আঙিনায় শিশুদের ব্যবহৃত একটি ডায়াপার ফেলাকে কেন্দ্র করে ফাহিমার সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সাইদ সিয়ামের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর ফাহিমা গোসল করতে ঘরে গেলে সাইদ ধারালো অস্ত্রসহ চার–পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। ফাহিমার চিৎকারে তাঁর চাচা আবু তাহের, চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন ও ভগ্নিপতি শাহজালাল এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাহিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপক্ষই একই বাড়ির। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। আজ শিশুর ব্যবহৃত ডায়াপার ফেলা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনার জেরে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। হামলার সময় অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী ঘরের এক পাশে লুকিয়ে ছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন।’