চেষ্টা করব ঠাকুরগাঁও হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করতে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে তিনি এ পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিয়ে কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও আসেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি শহরের একটি মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শেষে তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।
আজ সকালে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সময় মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সার্জারি বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের বিভাগগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে তেলাপোকা ও ছারপোকা নিধনে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
পরিদর্শন শেষে মির্জা ফখরুল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল দেখতে এসেছিলাম। আগের চেয়ে পরিষ্কার দেখেছি। আমরা আশা করছি যে হাসপাতালটি উন্নয়নে আরও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। আপনারা জানেন যে এখানে একটা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। সেটার সাইটও ঠিক করা হয়ে গেছে। মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে এই হাসপাতাল আরও উন্নত হবে। আমরা চেষ্টা করব, এটাকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করতে। এই এলাকার মানুষ যেন সব সময় স্বাস্থ্যসেবা পান, এ বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, তাদের যা যা প্রয়োজন তা যদি আমাদের জানায়, আমরা সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা নিতে পারব। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তিনি হাসপাতালে একটা লিফটের ব্যবস্থা করে দেবেন। আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জনের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ‘আমি সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করব, জেলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন ভালোভাবে চলে। সাধারণ মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পান। নিজেদের সীমিত সম্পদ দিয়েও যেন ভালো কাজ করতে পারি। আমি আশা করব, যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান উপস্থিত ছিলেন।