নন্দীগ্রামে নেতাদের ওপর হামলার পর বিএনপির সমাবেশ পণ্ড
নেতা-কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও সংঘর্ষের পর বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ পণ্ড হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার মাজগ্রাম ও বুড়ইল ইউনিয়নের পোঁতা এলাকায় এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপি এ সমাবেশ আয়োজন করে। আজ বেলা তিনটায় প্রথমে পৌর এলাকার মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এর কয়েক শ গজ দূরত্বে বাসস্ট্যান্ড এলাকার বঙ্গবন্ধু মঞ্চে জাতীয় শ্রমিক লীগের পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা বিএনপি আধা কিলোমিটার দূরে নন্দীগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। এ সমাবেশ শুরুর আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে মোটরসাইকেল মহড়া বের করে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, উপজেলার মাজগ্রাম ও বুড়ইল ইউনিয়নের পোঁতা এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, কেউ পুলিশের সামনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়নি।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, হামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী ও বুড়ইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন আহত হন। পরে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার মাজগ্রাম এলাকায় আরেক দফা হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে আরও দু-তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ক্যাডার বাহিনী ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা সদরের আদর্শ মার্কেটে অবস্থান নেন। সেখানে থানার ওসির সামনে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সহিংসতা এড়াতে সমাবেশ কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
অভিযোগ সম্পর্কে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে দলীয়ভাবে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আজ শ্রমিক লীগের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ ছিল। কিন্তু শোক দিবসের সমাবেশস্থল বানচাল করতে বিএনপি পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালনে আমরা অনড় থাকলে বিএনপি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে শোক সমাবেশ পণ্ড করার ষড়যন্ত্র করে। শেষে লোকসমাগম না হওয়ায় নিজ থেকেই সমাবেশ না করে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ এনে এখন উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে।’
এদিকে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া শেষে ফেরার পথে মাজগ্রাম এলাকায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে বুড়ইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান আহত হয়েছেন। তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবু রায়হানের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু মঞ্চে তাৎক্ষণিক সমাবেশ করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ আহমেদ বলেন, কোনো মহড়া বা কারও ওপর হামলা করা হয়নি। উল্টো বিএনপিই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর ওপর হামলা করেছে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের নেতার ওপর হামলার পর উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, কেউ পুলিশের সামনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়নি।