গোপালপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নে সুপারিশ করা ওই প্রার্থীর নাম হারিসুর রহমান ওরফে সোহান। তাঁর বাবার নাম আবদুর রহমান। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

আজ রোববার বিকেল চারটায় আলফাডাঙ্গা বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান, গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর গোপালপুর ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য গত শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সভা হয়। সভায় গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম হোসেন খানের পক্ষে ১৩ জন ভোট পড়ে। কিন্তু অনিয়ম করে মোনায়েমের পক্ষে ৮ ভোট দেখিয়ে ‘রাজাকারপুত্র’ হারিসুরকে ১ নম্বর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়। বক্তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মনোনীত প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, হারিসুরের বাবা আবদুর রহমান রাজাকার ছিলেন না। তিনি তৎকালীন ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ জন্য তাঁর নাম হয়তো ‘পিস কমিটিতে’ থাকতে পারে। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত ভোটাররা যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা সেভাবেই সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। এখানে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপালপুর ইউনিয়নের ১৯ জন কাউন্সিলর উপজেলা আওয়ামী লীগের ওই সভায় ভোট দেন। ভোটে অংশ নেওয়া ১১ জন হারিসুরের মনোনয়নে সুপারিশ করার বিরোধিতা করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একটি চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক ওরফে আরিফ বলেন, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১১ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি অভিযোগ তাঁরা গতকাল পেয়েছেন। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নসংক্রান্ত কোনো সুপারিশ এখনো তাঁদের হাতে আসেনি। সেটি পাওয়ার পর অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।