কারাবন্দীরা গাইলেন গান, দর্শনার্থীরা পেলেন ফুল

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বজনদের জন্য সাক্ষাৎ করতে আসা দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান জেল সুপার শাহ আলম খানছবি: কারা কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে বন্দীরা মাথায় লাল টুপি পরে গান গেয়েছেন। যেসব দর্শনার্থী স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টায় ঈদের জামাত এবং নামাজ শেষে রোজার ঈদের সেই চিরাচরিত গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...’ তাঁরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন। বন্দীদের কণ্ঠে গাওয়া এ গানের আবেশে কারাবন্দীরা ভুলেই যান, তাঁরা এখনো কারাবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বা তাঁরা পরিবার থেকে দূরে আছেন। তাঁদের মনে হচ্ছিল তাঁরা যেন পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদ্‌যাপন করছেন।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের দিন বন্দীদের জন্য এমন আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দীদের জন্য এমন আয়োজনে সব বন্দী খুবই আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা ক্ষণিকের জন্য হলেও হারিয়ে গিয়েছিলেন অন্য আবেশে নিজের মধ্যে। শুধু বন্দীদের জন্য নয়, তাঁদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতের জন্য আগত আত্মীয়স্বজনের জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগত দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। তাঁদের আপ্যায়ন করছেন ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পায়েস মুড়ি মিষ্টি দিয়ে।

জনৈক বন্দীর স্ত্রী সুমাইয়া (ছদ্মনাম) জানান, ঈদ উপলক্ষে তিনি কারাগারে থাকা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। এখানে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের যে সম্মান অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করেছে, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। শুধু তাঁকে নয়, সবার জন্যই এই ব্যবস্থা কারা কর্তৃপক্ষ রেখেছে। এ বিষয়গুলো তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এ ছাড়া বন্দীদের যেভাবে পায়েস মুড়ি খাওয়ানো হয়েছে, তাদেরও একইভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর স্বামী কারাগারে এ ধরনের সুস্বাদু পায়েসসহ ঈদের দিনে উন্নত মানের খাবার খাচ্ছেন, তা জানতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। তিনি কারা কর্তৃপক্ষের এই আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এ ছাড়া আগামী তিন দিন বন্দীদের বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া, তাঁদের বিশেষ সাক্ষাৎ, বিশেষ ফোনকল সুবিধা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, কারাগারের ভেতরে বন্দীদের প্রকৃত ঈদের আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি এই ব্যবস্থা করেছেন। অন্তত তাঁরা একটি দিনের জন্য হলেও ভুলে থাকতে পারেন যে তাঁরা বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন, তাঁরা যেন মনে করেন যে তাঁরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন।