আমরা চাই একটি সাম্যের বাংলাদেশ: জামায়াতের আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই একটি সাম্যের বাংলাদেশ। একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। একটি চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। একটি দখলবাজমুক্ত বাংলাদেশ। একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ।’
শুক্রবার রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০–দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আজ সকাল থেকে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন শফিকুর রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রংপুরে জনসভার মঞ্চে ওঠেন জামায়াতের আমির। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা তিনি বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশ যাঁরা গড়ার কথা বলবেন, তাঁদের নিজেদের চরিত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা এটার উপযুক্ত। কোনো অসৎ, দুর্নীতিবাজ, তাঁরা যদি অনেক সুন্দর সুন্দর কথা এবং গল্প শোনান, এদের কখনো বিশ্বাস করবেন না। এঁরা নির্বাচনেই রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মজার মজার কথা বলে আপনাদের একেবারে দেখবেন যে চৌদ্দ আকাশে পাঠায় দিচ্ছে। এঁরা ধোঁকাবাজ। চিনে রাখবেন, এঁদের “ইয়েস” বলবেন না। এদের কী বলবেন? “নো”। এদের বলবেন, তোমাদের জন্য লাল কার্ড। কী কার্ড? লাল কার্ড।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল, ৫ তারিখের পরিবর্তনের পর সবাই এখান থেকে শিক্ষা নেব। কেউ আর জনগণের সম্পদ, ইজ্জত এবং জীবনের দিকে হাত বাড়াব না। আমাদের আশা কি পূরণ হয়েছে? রংপুরের মানুষ খুবই ভালো, শিক্ষিত এবং ভদ্র। অল্পে তুষ্ট। এ এলাকার মানুষ মোটেই চাঁদাবাজি করে না। এখানে চাঁদাবাজ আছে? এ রকম এলাকায়ও চাঁদাবাজি হয়? এখানে বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখল হয়? এখানে মামলা-বাণিজ্য হয়?’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আল্লাহ–তাআলা তাঁর মেহেরবানিতে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে এই দেশ সেবার সুযোগ দেন, সরকার গঠনের সুযোগ দেন, এবার যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, আমরা তাঁদের আহ্বান জানাব আসুন। আসুন, পাঁচটা বছর অন্তত দেশটা এক হয়ে চালাই। তবে তিনটা শর্ত মেনে আসতে হবে। নাম্বার ওয়ান, নিজেরা কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দেবেন না। নাম্বার টু, সমাজের সব মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করার দুঃসাহস কেউ দেখাবেন না। রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে পারবেন না।...তিন নম্বর শর্ত, ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি—আমরা ওই রাজনীতি আর চাই না। যেই রাজনীতি তার নেতা–নেত্রীকে চোর বানায়, লুটেরা বানায়, সন্ত্রাসী বানায়, ফ্যাসিস্ট বানায়— ওই রাজনীতি আর আমরা দেখতে চাই না।’
‘ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই গড়তে হবে’
এর আগে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ১০–দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা দফায় দফায় অনেককেই ভোট, ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন। এবার জামায়াতে ইসলামীকে নয়, এ দেশের মুক্তিপাগল মানুষের ১০ দলের একটা ঠিকানাকে ভোট দেবেন। একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই গড়তে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি, আল্লাহ আমাদের সফলতা দিলে কাউকে বাদ দেব না। আমরা সবাইকেই বলব, আসেন, মিলেমিশে বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের এই মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। ধুরন্ধরেরা তাদের গরিব বানিয়ে রেখেছে। যুগের পর যুগ বৈষম্য করা হয়েছে। ন্যায্য পাওনাটাও দেওয়া হয়নি। সরকার এসেছে, সরকার গিয়েছে। নেতা এসেছেন, নেতা গিয়েছেন। হয়তো তাঁদের ব্যক্তিগত কিছু সুযোগ-সুবিধা হয়েছে, কিন্তু জনগণের যা হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কিছুই হয়নি, একেবারেই যদি অস্বীকার করা হয়, তবে সত্যকে অস্বীকার করা হবে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে যা হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুই হয়নি। যদি দুর্নীতি আর দুঃশাসন না থাকত, তবে উত্তরবঙ্গ রাজধানীতে পরিণত হতো।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে কথা দিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের নির্বাচিত করেন, আপনাদের সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তবে বাংলাদেশের সব কটি জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। যারা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের দুয়ারে সবার আগে চলে যাবে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন।’ তিনি বলেন, ‘বৈষম্য করব না, আমরা আল্লাহকে ভয় করব। আল্লাহকে ভয় করার কারণে বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রথমে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’