শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের (আরআরআরসি) জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জ এস এম ইশতিয়াক শাহরিয়ার বলেন, দুই রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। কেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, তা অনুসন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, আজ ভোররাতে ১৫ থেকে ২০ জনের এক দল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের এইচ-৭৬ ব্লকে রোহিঙ্গা দলনেতা (মাঝি) মো. সালামতের ভাই মো. আয়াত উল্লাহকে অপহরণ করতে যায়। এ সময় ওই ব্লকের পাহারার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা সন্ত্রাসীদের বাধা দেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা ১৫ থেকে ২০টি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক মো. ইয়াছিন মাটিতে লুটে পড়েন। এরপর সন্ত্রাসীরা মো. আয়াত উল্লাহর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে পাশের পাহাড়ের দিকে চলে যায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের রোহিঙ্গারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গাকে কুতুপালং এম এস এফ হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুই রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে এসে এই আশ্রয়শিবিরে বসতি শুরু করেন। শুরু থেকেই তাঁরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে আশ্রয়শিবিরে জনমত গঠনে কাজ করে আসছিলেন।

কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা জালাল আহমদ বলেন, প্রায় প্রতিদিন আশ্রয়শিবিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। মুক্তিপণের জন্য রোহিঙ্গাদের অপহরণ, মেয়েদের ধর্ষণ-চাঁদাবাজির ঘটনাও বেড়েই চলেছে। তাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত।

পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, তাসনিমারখোলা, ময়নারঘোনা, কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে ও কুপিয়ে এক মেয়ে শিশুসহ পাঁচজন রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূসহ পাঁচ রোহিঙ্গা।