চট্টগ্রামের ১৪ আসনে বিএনপির কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে হাতের কালি দেখাচ্ছেন এক ভোটার। গত বৃহস্পতিবার সকালে তোলাছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট বা ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের পেয়েছেন সাড়ে ২০ শতাংশ ভোট।

শুধু চট্টগ্রাম-৮ নয়, চট্টগ্রামের ১৪টি আসনে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট। চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন দুটি আসনে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।  

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট, যা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৬৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ এনামুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট। এটি আসনটিতে মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৭০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের বিজয়ী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭১টি, যার মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

নগরের তিন আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। চট্টগ্রাম-১০–এ (হালিশহর-ডবলমুরিং) সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট এবং  চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯১ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৫৬ থেকে ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এই তিনজন বিজয়ী হয়েছেন।

বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯,  চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৭, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসীম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৪১ থেকে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নাজমুল মোস্তফা আমীন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট। জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। তাঁর চেয়ে ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বখতেয়ার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির ধারাবাহিক ভালো ফল করার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখান থেকে নির্বাচন করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকার সময় চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দলটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ ছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অনেক নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকার কারণে দলের সাংগঠনিক অবস্থান ভালো।