হাসানের বাড়ি সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের চরবাগ্গা গ্রামে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর ইসলাম তাঁকে গ্রেপ্তার করতে আসেন। বাড়িতে এসে এসআই তাঁকেই জিজ্ঞাসা করেন, ‘হাসান’ কে? তখন তিনি কৌশলে ‘বাড়িতে নেই’ বলে গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা পান। পরে জানতে পারেন, একটি মারামারির মামলার আসামি তিনি। অথচ তিনি মামলার বাদীকে চেনেন না।

মারামারির যে মামলায় হাসানকে আসামি করা হয়েছে, তার বাদী আবদুল মতিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মামলায় হাসান নামের কাউকে আসামি করা হয়নি। হাসানের নাম তাঁর মামলার এজাহারে কীভাবে এসেছে, কে ঢুকিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তিনি হাসানকে চেনেনও না।

এ বিষয়ে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবপ্রিয় দাশ প্রথম আলোকে বলেন, হাসানকে অন্য মামলায় আসামি করার বিষয়টি হাসানই তাঁকে জানিয়েছেন। পরে ওই মামলার বাদীও হাসানকে মামলায় আসামি করেননি বলে তাঁকে জানিয়েছেন। বাদী কাকে কাকে আসামি দেবেন, এটা একান্ত তাঁর বিষয়। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী আসামি ধরতে গেছে। তদন্তে যদি হাসান অভিযুক্ত না হয়, অভিযোগপত্র দাখিলের সময় তাঁর নাম অবশ্যই বাদ দেওয়া হবে।

অটোরিকশাচালক মো. হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কয়েক বছর আগে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরবাগ্গা এলাকায় ১৬ শতক জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেন। একই জমি কেনার জন্য স্থানীয় জাবের হোসেন নামের এক ব্যক্তিও আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু বিক্রেতা তাঁর কাছে বিক্রি করেন। এ কারণে জাবের নানাভাবে তাঁকে হয়রানি ও অত্যাচার করে আসছেন।

মো. হাসান আরও বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী বিবি কুলছুম বাবার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে জাবেরের লোকজন কুলছুমের দুই হাত গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। ওই ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় পাঙ্খারবাজারে তাঁকেও মারধর করা হয়। পৃথক দুটি ঘটনায় তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পুলিশ সেগুলো মামলা হিসেবে রেকর্ড না করলেও তাঁর বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের একটি মারামারির মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জাবের হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি দেবপ্রিয় দাশ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করতে একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনে এসআই পরিবর্তন করে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ সত্য হলে মামলা নেওয়া হবে।