সকাল ৯টায় পাঁচবিবি এলবি উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের ৫ নম্বর বুথে এক নারী গোপন কক্ষে ঢুকে ইভিএমে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ফিরে এসে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শিখে নিয়ে আবার ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি এবারও ভোট দিতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। পরে তিনি আবার ভোটদানের পদ্ধতি শিখে নিয়ে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেন। এভাবে তাঁর ভোট দিতে সময় লাগে ১১ মিনিট।

পারুল রানী (৪৫) নামের ওই নারী একজন গৃহিণী। তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পারুল রানী বলেন, ‘আমি আগে কখনো মেশিনে ভোট দেইনি। ৬ বার চেষ্টার পর ভোট দিয়েছি। ব্যালটের ভোটই ভালো।’

১৩ মিনিট চেষ্টার পর ভোট দিয়ে বের হয়ে আসেন জায়েদা বেগম (৭৫)। তিনি পাঁচবিবির কুলিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। ইভিএমে ভোটদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এলা মেশিন কোনোদিন দেকিনি ও শুনিনি। মুরকে বুড়া মানুষের জন্নি এলা মেশিন লয়। সিল দেওয়া ভোটই ভালো ছিল।’

default-image

জানতে চাইলে ওই বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী বলেন, বয়স্ক ও স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের ইভিএম পদ্ধতি বুঝিয়ে দিতে সময় লাগছে। এ জন্য ভোটদানে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
সীতা মাতখুর অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, ডেকোরেটরের রঙিন কাপড় দিয়ে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের ভোটকক্ষগুলো খুবই অপ্রশস্ত ও ছোট। প্রার্থীদের এজেন্ট ও নির্বাচজন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গাদাগাদি করে বসে ভোট নিচ্ছিলেন।

ওই কেন্দ্রের ৪ নম্বর বুথে বেলাল হোসেন (৫৮) নামে এক ভোটার গোপনকক্ষে ঢোকেন। তবে তিনি ভোটদানের পদ্ধতি বুঝতে পারছিলেন না। এ সময় গোপন কক্ষের পাশ থেকে প্রার্থীর এজেন্টেরা তাঁকে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বলে দিচ্ছিলেন। প্রায় ১২ মিনিট পর বেলাল হোসেন ভোট দিয়ে বের হন। প্রায় ৩০ মিনিট ৪ নম্বর বুথের বাইরে অবস্থান করে দেখা যায়, মাত্র ৪ জন ভোটার ওই সময়ের মধ্যে ভোট দেন।

৪ নম্বর বুথের পোলিং কর্মকর্তা মো. ইফসুফ আলী বলেন, এমনিতেই কক্ষগুলো খুবই ছোট। এর ওপর বয়স্ক ভোটারেরা ভোট দিতে বেশি সময় নিচ্ছেন।

পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং ও বগুড়া জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, পৌরসভার তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচনের আগেই ভোটারদের ইভিএমে ভোটদানের পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। এরপরও কিছু ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে সময় নিচ্ছেন। তাঁরা আগে কখনো ইভিএমে ভোট দেননি বলে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন