দেয়াড়া বিলটির চারপাশে সড়ক। পূর্ব দিকে ছোট কাটনি আর পশ্চিমে কয়রা খুলনা মূল সড়কের পাশেই বেড়ের খাল নামের একটি খাল। বিলের পানিনিষ্কাশন হয় মূলত এই দুই খাল দিয়ে। তবে পূর্ব পাশের ছোট কাটনির খালের স্লুইসগেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকায় পশ্চিমের বেড়ের খাল হয়ে কপোতাক্ষ নদ দিয়ে ছাড়া পানি যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। বেড়ের খালটি সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া। সেখানে খালের মধ্যে নদীর লোনা পানি উঠিয়ে মাছ চাষ করছেন ইজারাদার আনিসুর রহমান। তিনি খাল দিয়ে পানিনিষ্কাশন করতে দিতে চান না বলে জানান কৃষকেরা। 

ওই এলাকার কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাল থাকতেও পানি সরবরাহের সুযোগ নেই। বিলের সাড়ে তিন শ একর জমির আমন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত তিন-চার বছর জলাবদ্ধতায় ফলন ভালো হয়নি। এ বছর অনেকেই আমন রোপণ করেননি। জমি অনাবাদি পড়ে আছে। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চাষের আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকে জীবিকার সন্ধানে অন্যের জমির ধান কাটতে যাচ্ছেন দূরে। 

দেয়াড়া গ্রামের আবদুল হাই নামের এক কৃষক বলেন, ‘বয়স বেড়েছে। দিনমজুরি কাজে শরীরে বল পাই না। নিজের জমির সঙ্গে কিছু জমি বর্গা নিয়ে ধান লাগিয়েছিলাম। মনে করেছিলাম বছরের খোরাক হয়ে যাবে। পানিনিষ্কাশন না হওয়ায় ধানের অবস্থা ভালো না।’ 

দেয়াড়া গ্রামের ওই বিলটি পড়েছে কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের মধ্যে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, পাশের খালটি ইজারা দেওয়ায় বিলের পানি সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হয়। জনগণের স্বার্থে খালের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। 

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘দেয়াড়া বিলের পানিনিষ্কাশনের একটি কালভার্ট একেবারেই বন্ধ হয়ে আছে। সেটি সংস্কার জরুরি।’