প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঅ্যান্ডবি মোড়ে কয়েকজন ফোর্স নিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করছিলেন আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার। এ সময় শরিফুল ইসলামকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। ‘সামনে রিকশা থাকায় পুলিশের সংকেত খেয়াল না করতে পেরে’ চলে যাচ্ছিলেন শরিফুল। এ সময় সার্জেন্ট সাবিহা তাঁর সঙ্গে থাকা নগরের রাজপাড়া থানার দুজন কনস্টেবলকে শরিফুলকে ধরার জন্য বলেন।

তখনই একজন কনস্টেবল শরিফুলের স্ত্রী রশিদার হাত ধরে টান দেন। এতে মোটরসাইকেলসহ পড়ে গিয়ে শরিফুল ও তাঁর স্ত্রী আহত হন। এ সময় সাবিহা শরিফুলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। শরিফুল ক্ষুব্ধ হয়ে কাগজপত্র না দেখানোয় মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে আহত দম্পতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে যান। শরিফুল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেলেও রশিদা বেগমকে হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে রিকশা থাকার কারণে সংকেত দেখতে পাইনি। তাই বলে একজন পুরুষ পুলিশ সদস্য আমার স্ত্রীর হাত ধরে টান দিতে পারেন না। পড়ে যাওয়ার পর রাগে আর কাগজপত্র দেখাইনি। সার্জেন্ট সাবিহা সে কারণে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি ওই কনস্টেবলকে দূরে সরিয়ে দেন। পরে আমার গাড়ি জব্দ করেন।’

শরিফুলের স্ত্রী কোমর ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন উল্লেখ তিনি বলেন, চিকিৎসক তাঁর স্ত্রীকে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করতে দিয়েছেন। এসব নিয়ে একটু ব্যস্ত আছেন। তাঁর স্ত্রী সুস্থ হওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি রাজশাহী মহানগর (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সার্জেন্ট সাবিহা ও আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার অনির্বাণ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তাঁরা ধরেননি।

তবে আরএমপির ট্রাফিক পরিদর্শক আতাউল আল-কোরাইশী বলেন, ঘটনার পর সার্জেন্ট সাবিহা তাঁকে ঘটনাটি জানাননি। তিনি অন্য মাধ্যমে বিষয়টি জেনে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে ফেলে দেওয়ার পরও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে মোটরসাইকেল জব্দ করায় সার্জেন্ট সাবিহাকে বকাঝকা করেছেন। শরিফুল, সার্জেন্ট সাবিহা ও দায়িত্বরত দুই কনস্টেবলকে তিনি ডেকেছেন।