ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা এলাকায় ইছামতী নদীর তীরে প্রায় ২০০ বছর আগে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ ‘ব্রজ নিকেতন’ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৪০ বছর ধরে জেলা ও দায়রা আদালতের সাবেক জজ খন্দকার আবুল হোসেন ও তাঁর ভাই ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজেদের কেনা সম্পত্তি দাবি করে ব্রজ নিকেতন দখলে রেখেছিলেন।

আজ সোমবার দুপুরে ঐতিহাসিক ব্রজ নিকেতন পরিদর্শনে আসেন সালমান এফ রহমান। তিনি জানান, ব্রজ নিকেতনকে প্রথমে পুনরুদ্ধার করা হবে। তারপর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যা করণীয়, তা–ই করা হবে।

ব্রজ নিকেতনে থাকা হরিণ প্রসঙ্গে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, এখানে হরিণ অবৈধভাবে রাখা হয়েছিল। হরিণ পালনের কোনো অনুমোদন তাদের ছিল না। সরকার প্রাসাদটি দখলমুক্ত করার পর তারা (দখলদার) গিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে। তবে শুনেছি, সেটি আবার বাতিল করা হয়েছে। আমরা হরিণগুলো তাদের দিয়ে দিতে চেয়েছি, তবে তারা নিতে আগ্রহী হয়নি। এখন এটি আমরা বন বিভাগের দায়িত্বে দিয়ে দেব।’

সরকারি জমি দখলের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘আমি জমির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এখানে আমি কাউকে কোনো ছাড় দেব না। এটা কোনো রাজনীতির বিষয় নয়। বিএনপি হোক আর আওয়ামী লীগের যে নেতাই হোক, যদি কেউ সরকারি জায়গা দখল করে থাকেন, তবে সেটি তাকে অবশ্যই ছাড়তে হবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) চন্দন কুমার, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন ঝিলু, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রমুখ।