নেছারাবাদে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলায় আহত ১৫

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে আহত ‍বিএনপির এক কর্মী । আজ বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে
ছবি: প্রথম আলো

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিএনপির সমাবেশে ট্রলারযোগে যাওয়ার পথে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানাসংলগ্ন সেতু থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ট্রলারে ইট ছোড়া হয়।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় পুলিশের গুলিতে দুই নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে আজ দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে। স্বরূপকাঠী পৌরসভার জগন্নাথকাঠী এলাকায় পৌর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ইন্দেরহাট বাজার থেকে কয়েকটি ট্রলারে করে বিএনপির কয়েক শ নেতা-কর্মী সন্ধ্যা নদী পার হয়ে থানা ঘাটে পৌঁছান। এ সময় থানাসংলগ্ন সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ট্রলারে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারেন।

ইটের আঘাতে পিরোজপুর জেলা জাসাসের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম (৪৫), পিরোজপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজল শিকদার (২৫), জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক পরাগ সরদার (৩০), সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান (২৪), যুবদল কর্মী ইমাম হোসেন (৪২), স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী বেল্লাল হোসেন (৩২), ফয়সাল মিয়া (২৭), মো. রাজু মিয়া (২৬), সাইফুল ইসলাম (৩৫), মো. সজীব আকন (২৮), ছাত্রদল কর্মী মো. আকাশ (২৬), মো. আকিব (২৭), মাহমুদ হাসান (২৫), সালেহ আহমেদ (২৭) ও শরিফুল ইসলাম (২৪) আহত হন।

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত আরেক বিএনপির কর্মীকে ক্লিনিকে নেওয়া হচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরে স্বরূপকাঠী পৌর শহরের থানা ঘাট এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রথমে সেতুর ওপর থেকে ট্রলারে ইট নিক্ষেপ করে হামলা করা হয়। পরে পৌর বিএনপির কার্যালয়ের ইট ছুড়ে ও পাইপ-লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ধরেননি।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শহিদ উল আহসান বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করি না। বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজেরা মারামারি করেও আমাদের ওপর দোষ চাপাতে চায়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গালি দিয়ে স্লোগান দিলে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করবে, এটা স্বাভাবিক।’

অপর দিকে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির মোহাম্মদ হোসেন দাবি করেন, তেমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে।