ব্রাহ্মণবাজার ইউপির স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আতাউর রহমানকে এ প্রকল্পের সভাপতি এবং স্থানীয় বাসিন্দা এ কে এম শাহজালালকে সম্পাদক করা হয়। মাসখানেক আগে থেকে রাস্তার কাজ শুরু হয়। রাস্তার দুই পাশে ছোট-বড় ১০-১২টি টিলা আছে। রাস্তার জন্য খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে এসব টিলার পাশ কেটে ফেলা হয়।

ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া রাস্তা হয়ে গেছে। আরও কিছু জায়গা বাকি আছে। রাস্তার কিছু স্থানে ইটও বিছানো হয়। অথচ ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, টিলা বা পাহাড় ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তা কাটতে পারবে না।

বাগানের শ্রমিকেরা বলেন, রাস্তা হলে বাগানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি গাছ চুরির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় একাধিকবার কাজে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা না মেনে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এতে বাগানের শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

সোমবার বিকেলে শ্রমিকেরা রাস্তার কাছে জড়ো হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুছ ছালেক ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউপির চেয়ারম্যান মমদুদ হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

লুয়াইউনি-হলিছড়া বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মাবুদ আলী গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘রাস্তার ১ হাজার ১৬০ ফুট জায়গা বাগানের ভেতরে পড়েছে। আমাদের ছয়-সাতটি টিলা কাটা হয়েছে। বাইরে বস্তি এলাকায় আরও কিছু টিলা কাটা পড়েছে। পরিবেশের পাশাপাশি এ রাস্তার সঙ্গে বাগানের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। অথচ এ বিষয়ে আগে কেউ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। তাই শ্রমিকেরা বাধা দেন।’

রাস্তাটি হলে তিন-চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের উপকার হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সম্পাদক এ কে এম শাহজালাল। তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সাহেব প্রকল্পটি বরাদ্দ দেন। টিলা কাটার ব্যাপারে আইনি বাধা রয়েছে। তবে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এটা করা হয়েছে। রাস্তার কাজও প্রায় শেষের দিকে।’

ইউএনও মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, রাস্তা নিয়ে লুয়াইউনি-হলিছড়া বাগানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। আপাতত রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাগান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, টিলা কাটার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন