মেঘনা ফিশিং এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয়ভাবে মেঘনা নদীতে তেমন ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে না। তবে যাঁরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তারা ভালো মাছ পাচ্ছেন। এমনই একটি মাছ ধরার ট্রলার এফবি রায়হান। ট্রলারটির মালিক ভোলার দৌলতখান উপজেলার মালেক কোম্পানি।
হাবিবুর রহমান জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর এফবি রায়হান ট্রলারের সারেং মো. শফিকুর রহমান জেলেদের নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। গতকাল রাত নয়টার দিকে ট্রলারটি মাছ নিয়ে চেয়ারম্যানঘাটে আসে। এখানে নিলামে তোলার পর ট্রলারটির প্রতি মণ মাছ ১২ হাজার ৪৪৪ টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মাছের মূল্য দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

ট্রলারের মালিক আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে টানা ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এতে তাঁদের ট্রলারের সব জেলে বেকার হয়ে পড়েন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। পাঁচ দিন সাগরে ছিলেন তাঁরা। গতকাল ফিরে আসার পথে তাঁরা চেয়ারম্যানঘাটের মাছের আড়তে যোগাযোগ করে ভালো দাম পাওয়ায় সেখানে বিক্রি করেন।

চেয়ারম্যানঘাটের জেলে আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল যে ট্রলারটিতে ১১৭ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে, ওই ট্রলারে ৬০০ গ্রাম থকে দুই-আড়াই কেজি ওজনের ইলিশ ছিল। ইলিশ ধরা পড়ার খবরে অন্য জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য উৎসাহী হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও হরণী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর জেলেদের কেউ নদীতে, আবার কেউ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছেন। নদীর তুলনায় যাঁরা গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন, তাঁরা ভালো মাছ পাচ্ছেন। তবে মেঘনা নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। নদীতে পাওয়া যাচ্ছে পোয়া মাছ। তাতে জেলেরা লাভবান হচ্ছেন।