গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজ সোমবার সকালে জানাজা শেষে জোবায়দার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ, পারিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জোবায়দার বাবা রফিক উদ্দিন হাতিয়া কমিউনিটি কলেজে অফিস সহায়কের (পিয়ন) চাকরি করেন। মাসে যে বেতন পান, তা দিয়ে সাত সদস্যের পরিবারের খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। গতকাল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় জোবায়দা বাবার কাছে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি ও জুতা কেনার জন্য তিন হাজার টাকা চায়। কিন্তু দরিদ্র রফিক উদ্দিন টাকাটা দিতে পারেননি। কাঁদতে কাঁদতে মাদ্রাসায় চলে যায় জোবায়দা।

দুপুরে বাড়ি ফেরে। মা পুকুরঘাট থেকে ফিরে এসে দেখেন মেয়ে ছটফট করছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জোবায়দার মৃত্যু হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, পরিবারটি অতিদরিদ্র। অভিমান করে মেয়েটি বিষপান করেছে। এ বিষয়ে পরিবারেরও কোনো অভিযোগ নেই। পরে মানবিক দিক বিচেনায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।