সালথায় ভাঙচুরের মামলায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

আসাদুজ্জামান মাতুব্বর
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় সালথা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মাতুব্বরকে (৪৫) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তরুণ বাছার এ আদেশ দেন।

করোনা মোকাবিলায় বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ফরিদপুরের সালথায় লোকজনকে পেটানো হয়েছে, এমন অভিযোগে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল রাতে থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় উপজেলা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় চার হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ মামলা করে। ওই মামলায় আসাদুজ্জামান মাতুব্বরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আসাদুজ্জামান মাতুব্বর উপজেলার সালথা গ্রামের বাসিন্দা জব্বার মাতুব্বরের ছেলে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, পুলিশের করা ওই মামলায় মো. আসাদুজ্জামান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওই মামলায় জামিনের আবেদন জানিয়ে আজ আদালতে হাজির হন তিনি। তবে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার একই মামলার পলাতক আসামি হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মোল্লা ওরফে বাবুকে (৪১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলে একই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০২১ সালের ৫ এপ্রিল রাতে সালথা উপজেলা পরিষদ ভবন, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বর, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মাতুব্বর, সোনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামানসহ ৪৮৮ জনকে অভিযুক্ত করে ফরিদপুরের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করার পর মামলার যেসব আসামি পলাতক ছিলেন, তাঁদের নামে ওয়ারেন্ট জারি করেন।

এ মামলার আসামি হিসেবে সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা জামায়াতের আমির চৌধুরী ইমদাদ আলী সিদ্দিকী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিন খন্দকার আগে থেকেই ফরিদপুর জেলা কারাগারে আছেন।

আরও পড়ুন