পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল হক ‘গুলিবিদ্ধ হননি’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গণ অধিকার পরিষদে প্রার্থী নুরুল হক নির্বাচনী এলাকায় সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। গত সোমবারের ছবিছবি : প্রথম আলো

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) গুলিবিদ্ধ হওয়ার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন। নুরুল হক জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন এবং বর্তমানে নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

বিষয়টি নজরে আনা হলে নুরুল হক প্রথম আলোকে জানান, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেখেছেন। তবে বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে জড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা।

তবে নুরুল হকের অভিযোগ, তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের লোকজন। এতে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নুরুল হক দাবি করেন, হাসান মামুনের স্ত্রী প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছেন। এর ফলে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ফল পাচ্ছেন না বলে জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গতকাল রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বোনের বাসার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আজ বুধবার পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান নূর।