ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, মায়ের সঙ্গে আবদুল্লাহ ও তাঁদের নিকটাত্মীয় কয়েকজন ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসেন। ওঠেন উখিয়ার রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টে। বেলা ১১টার দিকে আবদুল্লাহসহ তাঁর চার খালাতো ভাই হোটেলে সামনের সৈকতে (নির্মিতব্য নৌবাহিনীর সেতুর উত্তর পাশে) গোসলে নামেন। একপর্যায়ে বড় একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় চারজন ভেসে যেতে থাকে। এরপর তিন খালাতো ভাই কূলে উঠতে সক্ষম হলেও আবদুল্লাহ ডুবে যায়। ওই সৈকতে পর্যটকের গোসলে নামা নিষিদ্ধ। গোসলে নেমে কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো লাইফগার্ড সেখানে নেই।

ঘটনার পরপর ইনানী জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও লাইফগার্ডের সদস্যরা। তবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত নিখোঁজ আবদুল্লাহর সন্ধান মেলেনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনানী জোনের পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, মাকে না জানিয়ে আবদুল্লাহসহ চারজন সমুদ্রে নামে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, গত পবিত্র ঈদুল আজহার পরের ১০ দিনে অন্তত ছয় লাখ পর্যটক সৈকতে ভ্রমণে আসেন। এর বিপরীতে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন–সংশ্লিষ্ট অন্তত চার হাজার প্রতিষ্ঠান ৬২০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। কিন্তু সৈকতে নিরাপদ গোসলে ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ১২ বছরে সমুদ্রে গোসলে নেমে অন্তত ৯৮ জন পর্যটকের মৃত্যু হলেও সৈকতের কোথাও নিরাপদ গোসলের নেটিং সিস্টেম তৈরি হয়নি। এমনকি সমুদ্রে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে সরকারিভাবে একজন ডুবুরিও নেই। সমুদ্রে কেউ নিখোঁজ হলে ১৫০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস অথবা নৌবাহিনীর ডুবুরির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন