‘ছেলে তো মরলই, শেষবারের মতো লাশটা দেখতে চাই’

জামাল হোসেনছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার যুবক জামাল হোসেন (৩৫) দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউন এলাকায় তাঁর নিজের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধুও আহত হয়েছেন।

জামাল হোসেনের মৃত্যুর খবর আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সিপাইকান্দি গ্রামে পৌঁছালে স্বজনেরা শোকাহত হয়ে পড়েন। তাঁর মরদেহের অপেক্ষায় আছে পরিবারটি।

জামাল হোসেন মতলব উত্তর উপজেলার সিপাইকান্দি গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে জামাল মেজ। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংসারে সচ্ছলতা আনতে প্রায় পাঁচ বছর আগে টাকা ধার করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল। কুইন্সটাউন এলাকায় নিত্যপণ্যের দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত সংসারের যাবতীয় খরচ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিজের দোকানে ছিলেন জামাল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর টিনশেডের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে দোকানের ছাউনি কেটে ওপর থেকে জামাল ও তাঁর বন্ধুর ওপর গুলি চালায়। এতে জামালের মাথা ও বুক গুলিবিদ্ধ হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জামালের পরিচিতদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিজের দোকানে ছিলেন জামাল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর টিনশেডের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে দোকানের ছাউনি কেটে ওপর থেকে জামাল ও তাঁর বন্ধুর ওপর গুলি চালায়। এতে জামালের মাথা ও বুক গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুটি আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আশপাশের লোকজন তাঁকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জামালের বাবা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ছেলে মারা যাওয়ায় আমাগো সব শেষ। ছেলে হারানোর কষ্টের কথা কারে শোনামু। কে দূর করব আমার বুকের কষ্টটা। ছেলে তো মরলই, শেষবারের মতো লাশটা দেখতে চাই। নিজ হাতে দাফন–কাফন করতে চাই। তাইলে কিছুটা হলেও কষ্ট দূর অইব।’

দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী ওই যুবকের মৃত্যুর খবরটি শুনেছেন বলে জানালেন মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, তাঁর লাশ দেশে আনতে বা দেশে আনার পর দাফন করতে যে সহযোগিতা দরকার, তা তাঁরা করবেন।