নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে এ উৎসবের আয়োজন করে জারুল্যাপুর আদিবাসীপাড়া পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জারুল্যাপুর আদিবাসীপাড়া পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সুমন কুজুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আদিবাসী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশদ মণি টপ্য প্রমুখ।

দুই দিনের এ উৎসবের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার ওঁরাওরা নিজ নিজ বাড়ি, বাড়ির চারপাশ, তুলসীতলা, ধানখেত, বাঁশবাগান ও সমাধিস্থলে মাটির তৈরি প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করে ‘সোহরাই’। গতকাল সকাল থেকে চলে গোয়ালপূজা, গবাদিপশুর বিশেষ যত্নআত্তি, বাড়িঘর ধুয়েমুছে, উঠোন নিংড়ে বয়স্করা হাঁড়িয়া পান করে লম্বা বাঁশের মাথায় সাদা পতাকা (ঝান্ডি) বেঁধে গ্রামের মধ্যে ফাঁকা স্থানে নিয়ে পুঁতে রাখেন। তারপর এর চারদিক ঘিরে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নারী-পুরুষের নাচ-গান।

গতকাল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ওঁরাও আদিবাসী গ্রাম জারুল্যাপুরে গিয়ে দেখা যায়, মাটির তৈরি প্রতিটি বাড়ি ঝকঝক করছে। হালের লাঙল-জোয়াল, দা-কাস্তেসহ বাড়ির দরজার কপাট পর্যন্ত খুলে ধুয়েমুছে রোদে দিয়ে তাতে লাগানো হয়েছে চালের আটার গোলানি ও সিঁদুরের ফোঁটা। গবাদিপশুগুলোর শিঙেও তেল-সিঁদুরের যত্ন। বিকেলে জারুল্যাপুর মাঠে বাঁশের মাথায় সাদা পতাকা (ঝান্ডি) বেঁধে তার চারপাশ ঘিরে নাচ-গান করেন ওঁরাও নারী-পুরুষ।

নিয়ামতপুর উপজেলা আদিবাসী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশদ মণি টপ্য জানান, নিয়ামতপুরের ওঁরাও গ্রামগুলো ছাড়াও পাশের পোরশা, সাপাহার, মহাদেবপুর উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ওঁরাও গ্রামগুলোতে গোয়ালপূজা হয়।