নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে: শামসুজ্জামান দুদু
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘১৬-১৭ বছর ধরে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় বিএনপি পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হলেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা তৈরি আছি। যে মুহূর্তে সরকার নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করবে, ঠিক সে মুহূর্তে আমরা নির্বাচনমুখী যেসব তৎপরতা, মনোনয়ন বোর্ড গঠন, প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা—এ কাজগুলো শুরু করব। বৃহৎ পার্টি হিসেবে অতীতে একাধিকবার ভোটের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচন করেছে। আগামী দিনেও ভোটের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে। এ প্রত্যাশায় যে কাজগুলো করা প্রয়োজন, বিএনপি তার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ করে রেখেছে। ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো আমরা করে ফেলতে পারব।’
আজ শনিবার বিকেল চারটায় দিনাজপুর সদর উপজেলায় দলীয় সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথাগুলো বলেন শামসুজ্জামান। উপজেলার বাঁশেরহাট সালমাবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি রিসোর্টের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আয়োজনে দলের বিভিন্ন ইউনিট ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘খুনি, লুটেরা, দেশের সংবিধান তছনছকারী, স্বাধীনতা বিপন্নকারী একটা দানবীয় সরকারকে আমরা বিদায় করেছি মাত্র সাত-আট মাস আগে। গত ১৫–১৬ বছর বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে। আন্দোলনে অনেকে শহীদ হয়েছেন। বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীসহ অনেকে গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন। আমাদের নেত্রী ছয় বছর জেলে ছিলেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৫-১৬ বছর নির্বাসনে কাটাচ্ছেন। আমাদের অনেক নেতা-কর্মী ফাঁসির মুখোমুখি হয়েছেন, কারও ফাঁসি হয়েছে। ৬০ লাখ নেতা-কর্মী আসামি হয়ে দিনের পর দিন জেল খেটেছেন শুধু গণতন্ত্রের প্রত্যাশায়। তবে লড়াই শেষ হয়নি। যত দিন মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে না পারব, তত দিন আমাদের রাজপথে থাকতে হবে, রাজপথে মীমাংসা করতে হবে।’
সংসদ নির্বাচন বিষয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস সাহেব কথা দিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বা তার পরে দু-এক মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ নির্বাচন দেবেন। আমরা সেটা বিশ্বাস করতে চাই এবং সরকারের কাছে নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রত্যাশা করি। যত তাড়াতাড়ি এ রোডম্যাপ ধরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারব, তত দিন সংকট কাটবে না। সংকট কাটানোর জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিত্ব দরকার। এ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মানুষ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ ব্যাপারে আমরাও সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।’
দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কাজের সংস্থান সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি—এমন মন্তব্য করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা আরও উন্নত করতে চাই। আমরা ৩১ দফার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল রাষ্ট্র বানাতে চাই। সে জন্য আমাদের আন্দোলন চলছে। আগামী দিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগপর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষকে একটি নিশ্চিত জীবন দিতে চাই। বিএনপি আগামী দিনে যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কোটি মানুষের কাজের সংস্থান করতে চায়। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য।’
দলীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব (দুলু)। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহম্মেদ প্রমুখ।