জনগণকে নিয়ে সংস্কার করতে হলে নির্বাচন দিতে হবে: জোনায়েদ সাকি

খুলনার শিববাড়ী মোড়ে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি। সোমবার বিকেলে
ছবি: প্রথম আলো

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরবে না। যে সংস্কার ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে, জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে, সে সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। যদি দেখা যায়, ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রয়োজনীয় সংস্কারে ঐকমত্য হচ্ছে না, আমরা জনগণের কাছে যেতে চাই। আপনারাই হচ্ছেন আসল ক্ষমতার মালিক, আপনারাই ঠিক করবেন বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় কোন কোন বিষয় প্রয়োজন। আপনারা নিজেদের ভোট প্রয়োগ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবেন।’

আজ সোমবার বিকেলে খুলনার শিববাড়ী মোড়ে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন। কর্মসূচি থেকে বন্ধকৃত ২৬টি রাষ্ট্রীয় পাটকল-নিউজপ্রিন্ট–হাডবোর্ড মিলসহ খুলনার সব শিল্প কলকারখানা চালুর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে জোনায়েদ সাকি তিনি বলেন, ‘জনগণকে বাদ দিয়ে সংস্কার হবে না। জনগণকে নিয়ে সংস্কার করতে হলে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন ছাড়া জনগণের অংশগ্রহণে সংস্কার কীভাবে হবে? তাই আমরা সংস্কারের রূপরেখা চাই, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নির্বাচনের তারিখ চাই। বিচার, সংস্কার, নির্বাচন—এই রোডম্যাপ থেকে যারা আমাদের অন্যদিকে নিতে চাইবে, তারা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ বিভেদের সংস্কৃতি চালু করেছিল উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের দেশের সমস্ত জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন। আমরা সেটা থেকে মুক্তি পেয়েছি, সেটা আমাদের গণ–অভ্যুত্থানের অর্জন। কিন্তু শুধু এতটুকু অর্জনের জন্যই আমাদের সন্তানেরা, আমাদের নাগরিকেরা এভাবে আত্মাহুতি দেন নাই, এভাবে শহীদ হন নাই। আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে যে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলা যায়, সেটা বাতিল করতে হবে। আর কেউ যাতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলতে না পারে। আমরা সেই কারণে লড়াই করেছি।’

বাংলাদেশের সংবিধানে ক্ষমতার কোনো ভারসাম্য নেই বলে উল্লেখ করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী। সংবিধানের দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব ক্ষমতা একজনের হাতে, যেই প্রধানমন্ত্রী হোক পুরো রাষ্ট্র তাঁর পকেটে। শেখ হাসিনা যা করেছে, তা এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত নগ্ন চেহারাটা আমাদেরকে দেখিয়েছে। পরিণতিও সে দেখেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কেউ যদি আমাদের দেশের নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তার পরিণতিও শেখ হাসিনার মতো হবে। দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলাতে চাইলে তা ন্যায়বিচার দিয়ে শুরু করতে হবে বলে মনে করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করলে আমরা রাষ্ট্রটা যে জায়গায় নিতে চাই, সেখানে যাবে না। রাষ্ট্র যদি ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে না পারে, তাহলে সেটা জনগণের রাষ্ট্র থাকে না। ওই রাষ্ট্র খুনের রাষ্ট্রে পরিণত হয়, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের পরিণত হয়।’

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আপনার সরকার এক বছরের মধ্যে শহীদের তালিকা তৈরি করতে পারল না, তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারল না, আহতরা এখনো চিকিৎসার জন্য ক্ষোভ ঝাড়ে, তাদের পরিবার কীভাবে চলবে, সেই দায়িত্ব আপনারা নিতে পারলেন না। কাজের তালিকায় আগে অগ্রাধিকার ঠিক করুন। অভ্যুত্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, অভ্যুত্থান যা চায়, সেটা দিতে হবে। এবং সেই কাজই সম্পন্ন করা আপনাদের দায়িত্ব। আজীবন আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন না। প্রতিটি শহীদ পরিবার যাতে এই সন্তুষ্টিতে থাকে যে অন্তত বিচার শুরু হয়েছে।’

লুটপাট ও দুর্নীতি করে দেশের গর্ব পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তার জন্য কি শ্রমিকেরা দায়ী? সমস্ত আমলা আর দুর্নীতিবাজ পরিচালকেরা মিলগুলোকে লুটপাট করে ফোকলা বানিয়ে দিয়েছিল। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছিলাম, অন্তত একটা মিল ভালো করে চালু করেন, একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যান। সম্পদের যদি সুষম ও ন্যায্য বণ্টন না হয়, তাহলে কোনো রাষ্ট্র স্বৈরাচার আর একচেটিয়া কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে না।’

গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলার আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য আল-আমিন শেখের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশীদ (নীলু)।