স্ত্রীকে পরে কল করার কথা বলেছিলেন কাতারপ্রবাসী আজম, এল তাঁর মৃত্যুর খবর
কাতারে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় গতকাল শনিবার রাতে বহুতল ভবন থেকে পড়ে আজম মিয়া (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে।
নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজম পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে কাতারে যান। তিনি দোহায় কাজ করতেন। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁর স্ত্রী সুলতানা বেগম তাঁকে ইমোতে কল দেন। এ সময় আজম তাঁকে বলেন, দিনে প্রচণ্ড গরমের কারণে তাঁদের রাতে কাজ করতে হয়। তিনি কাজে যাচ্ছেন। ফিরে কল দিয়ে কথা বলবেন।
স্বামীর কাছ থেকে সেই কল আর সুলতানা বেগমের কাছে আসেনি। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে কাতারপ্রবাসী কয়েকজন আত্মীয় কল দিয়ে সুলতানা বেগমকে জানান, আজম বহুতল ভবনে কাজ করার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান। এতে আজম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পুলিশ আজমের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত আজমের বড় ভাই মাতাব মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চার ভাই। একই বাড়িতে সবার আলাদা সংসার। আজমের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তাঁর উপার্জনেই সংসার চলত। প্রায় দুই বছর আগে তিন মাস ছুটি কাটিয়ে আজম কাতারে ফিরেছিলেন। লাশ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কাতারে দুর্ঘটনায় আজম মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুশন মিয়া। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আজ সকালে তিনি আজমের বাড়িতে যান। আজমের মৃত্যুতে সংসারটা চাপে পড়ে গেল।