সংসদকে কার্যকর করতে হবে, সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, সংসদকে প্রাণবন্ত করা। কিন্তু এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে এবং এখন থেকে সংসদকে কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশের সব জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে পার্লামেন্ট। সব কাজের কেন্দ্রে থাকবে পার্লামেন্ট। সে জন্য পার্লামেন্টকে কার্যকর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণবন্ততা তার সঙ্গে থাকবেই।’
আজ রোববার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম।
সংসদে বিরোধী দলের সবচেয়ে বেশি কথা বলার সুযোগ থাকে বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘আপনারা সব সময় লক্ষ্য করে থাকবেন, সংসদে বিরোধী দলই সবচেয়ে বেশি কথা বলার সুযোগ পায়। অধিকাংশ সুযোগ তারাই গ্রহণ করে এবং সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। জাতীয় সব বিষয়ে সংসদে বিতর্ক হোক, সেটি আমরা চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, তারা বিতর্কে অংশ গ্রহণ করুন এবং বিতর্ক হোক।’
সংসদের প্রথম অধিবেশন এবার একটু ব্যতিক্রমধর্মী হবে বলে জানান মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ করেছেন। সে ক্ষেত্রে প্রথম সংসদে তাঁদের নির্বাচন করতে হবে। প্রথম দিন আপনারা দেখবেন, সামনের স্পিকারের চেয়ারটি খালি থাকবে। তখন মাননীয় সংসদ নেতা একজন সিনিয়র সদস্যকে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। তাঁর সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর আমরা ইনশা আল্লাহ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করব। তারপর যথারীতি সংসদ চলতে থাকবে।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে বিগত সময়ে যত অর্ডিন্যান্স হয়েছে, সেগুলোর লে–আউট হয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। আমাদের ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স রয়েছে, আমরা এগুলোর লে–আউট করব অধিবেশনে।’
ফ্যাসিস্ট সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে বিএনপি ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি। চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, এই দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। ইতিমধ্যে প্রথম বৈঠকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। ১০ তারিখে ফ্যামিলি কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। এ ছাড়া কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খতিবদের তালিকা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, যাতে তাঁদের সরকারিভাবে ভাতা দেওয়া যায় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা যায়।’